মস্কোর সঙ্গে কিয়েভ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনকে পুনরায় সামরিক সাহায্য পাঠানো শুরু করেছে আমেরিকা। সৌদি আরবের জেদ্দায় আমেরিকা-ইউক্রেন বৈঠকে মস্কোর সঙ্গে ৩০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে কিয়েভ। ইউক্রেন রাজি হতে আমেরিকাও ইউক্রেনকে আবারও সামরিক এবং অন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এদিকে, হোয়াইট হাউজে আবারও আলোচনার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেদ্দার এই আলোচনা ছিলো সম্প্রতি ওভাল অফিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে নজিরবিহীন বাকবিতণ্ডার পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
জেদ্দার বৈঠক শেষে, এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা অবিলম্বে ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি ও নিরাপত্তা সহায়তা পুনরায় চালু করবে। ট্রাম্প-জেলেনস্কির বাকযুদ্ধের পর এগুলো স্থগিত করা হয়েছিলো। মার্কিন সহায়তা ছাড়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের যুদ্ধ কঠিন হয়ে উঠেছিলো।
আমেরিকার সামরিক সহায়তা পোল্যান্ড হয়ে ইউক্রেনে যায়। আমেরিকার পাঠানো সামগ্রী প্রথমে দেশটির জেজো ইয়াসিওঙ্কা শহরে একটি গুদামে আসে। তার পরে সেগুলো ইউক্রেনে পাঠানো হয়। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী র্যাডোস্ল সিকরস্কি বুধবার সকালে জানান, সাময়িক বিরতির পরে পুনরায় ইউক্রেনের জন্য আমেরিকার সাহায্য আগের মতোই আসতে শুরু করেছে ওই গুদামে।
জেদ্দায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেরার পথে বর্তমানে পোল্যান্ডে রয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদ্রেই সিবিহা। বুধবার সিবিহাকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেন পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই সময়েই ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সহায়তা পুনরায় চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিকরস্কি।
সিবিহাও জানান, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে তারা আগ্রহী। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কোন পথে চূড়ান্ত হবে, তা নিয়ে আলোচনা, সমঝোতা এবং দর কষাকষির জন্য একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলও তৈরি করতে চায় ইউক্রেন। তবে সব কিছুই এখন নির্ভর করছে মস্কোর সদিচ্ছার উপর।
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউরোপকে পাশে পেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুদ্ধবিরতির জন্য ইউক্রেনের রাজি হওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জার্মানির বিদায়ী চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজ। এবার রাশিয়াও যাতে শান্তি ফেরাতে উদ্যোগী হয়, সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সামনে আসার পর এরই মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, আমাদের কাছে আগে এই তথ্য পৌঁছাতে হবে। আমাদের এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হওয়ার কথা রয়েছে, যার মধ্যে আমরা সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছি।
যুদ্ধ বন্ধে জেদ্দায় বৈঠকে বসেছে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র
পাকিস্তানে ট্রেন জিম্মি: দেড় শতাধিক যাত্রী উদ্ধার, নিহত ২৭