মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তাও ইলনের প্রশাসন ছাড়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি বা ডিওজিই’র প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করছিলেন তিনি। ইলন মাস্ক জানান, মার্কিন সরকারের এক জন বিশেষ কর্মচারী হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর আগে এক্স পোস্টে তাকে সরকারি ব্যয় কমানোর সুযোগ দেয়ার জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও লেখেন, ডিওজিই মিশন ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে এবং সরকারে একটি জীবনধারায় পরিণত হবে। ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি ইলন মাস্ক। গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর ট্রাম্প তার নতুন প্রশাসনে যুক্ত করেন ইলন মাস্ককে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ট্রাম্প মাস্ককে মার্কিন প্রশাসনের কর্মীবহর ও খবর কমানোর গুরুদায়িত্ব দেন। ওই দায়িত্বে টালমাটাল কয়েক মাস কাটানোর পর টেসলার প্রধান নির্বাহী হোয়াইট হাউজ ছাড়ার খবর দিলেন। তার নেতৃত্বাধীন ডিওজিই এই কয়েক মাসেই লাখো মার্কিনীর চাকরি খেয়েছে।
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এ প্রযুক্তি টাইকুনকে বিশেষ সরকারি কর্মীর মর্যাদা দেয়া হয়েছিল, যার আওতায় তিনি প্রতি বছর ১৩০ দিন করে ফেডারেল সরকারে কাজ করার সুযোগ পান। ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের যাত্রা শুরুর দিন ধরলে, মে-তেই মাস্কের এ সময়সীমা শেষ হয়ে যায়।
বিদায়ের ঘোষণা দেওয়ার আগের দিনই স্পেসএক্সের এই প্রধান নির্বাহী ট্রাম্পের বাজেট বিলের সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের এ বাজেট বিলে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার করছাড় ও প্রতিরক্ষায় বিপুল ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিল পাস হলে তা ফেডারেল সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়াবে বলে মত টেসলাপ্রধানের।
মাস্ক বলেন, এই খরচবহুল বিল দেখে আমি হতাশ। এতে ঘাটতি কমানোর বদলে বরং বাড়ানো হয়েছে। যা ডিওজিই টিমের কাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এই বিলের আওতায় ট্রাম্পের বেশ কিছু অগ্রাধিকার প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দও রয়েছে, যেমন মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ও ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের বাজেট বৃদ্ধি। বিলটি সম্প্রতি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে এবং এখন সিনেটে আলোচনার অপেক্ষায় আছে।
গাজায় ইসরাইলি হামলায় জার্মান চ্যান্সেলরের উদ্বেগ