মেসির কলকাতা সফরের উদ্যোক্তা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:২৩ পিএম

ফুটবল মেগাস্টার লিওনেল মেসির এক ঝলক দেখার জন্য শনিবার সকালে হাজার হাজার ফুটবল ভক্ত কলকাতায় সল্টলেক স্টেডিয়ামে সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে সরাসরি দেখার যে সুযোগটি জীবনে একবার আসে, তা শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো।

ভোরে কলকাতায় তিন দিনের ভারত সফরের প্রথম ধাপে পৌঁছানো মেসির সল্টলেক স্টেডিয়ামে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি অনেক ভক্তকে হতাশ করেছে। ভিভিআইপি এবং রাজনীতিবিদদের ভিড়ে ঘেরা থাকায়, টিকিট প্রতি ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করা হাজার হাজার ভক্তের কেউই তাকে দেখতে পাননি।

ভক্তদের সেই হতাশা ও ক্ষোভ একসময় বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়। কর্মকর্তারা দুয়োধ্বনি দিতে শুরু করলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মাঠে চেয়ার ও বোতল নিক্ষেপ করা হয়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে যখন অনেকে মাঠে ঢুকে পড়ে এবং স্টেডিয়ামের অবকাঠামো ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় মেসির স্টেডিয়ামের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করতে হয় এবং সফরের আয়োজকরা তাকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যান।

পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাওয়ায় স্টেডিয়ামে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ বাহিনীকে ডাকতে হয়। মেসি তার পরবর্তী গন্তব্য হায়দ্রাবাদের ফ্লাইটের জন্য বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ ভক্তরা স্টেডিয়ামে খারাপ ব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে তাদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানাতে শুরু করেন।

এই ঘটনা কয়েক মাসের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুখোমুখি রাজ্য সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। বিজেপি একে অব্যবস্থাপনা বলে আখ্যায়িত করে বিশ্ব মঞ্চে এটিকে ‘লজ্জা’ বলে অভিহিত করে। মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, মমতা কোনো ইভেন্টের ব্যবস্থাপনা করতে পারেন না।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সল্টলেক স্টেডিয়ামের অব্যবস্থাপনায় হতবাক হয়েছেন বলে জানান এবং এক পোস্টে মেসি ও তার ভক্তদের কাছে ক্ষমা চান। তিনি ঘটনার জন্য রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়কে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রীর দল তৃণমূলও আয়োজকদের সমালোচনা করে দলের এক সিনিয়র নেতা প্রশ্ন তোলেন, কেন এটি নিশ্চিত করা হয়নি যে, মেসিকে দর্শকরা সেভাবে দেখতে পাবেন না। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, এতে কি কলকাতার সুনাম বেড়েছে? কেন অযোগ্য আয়োজকরা ন্যূনতম পরিকল্পনারও কোনো চিহ্ন রাখেননি? শুধু টাকা? শুধু ব্যবসা? কলকাতা লজ্জিত। দর্শকদের রাগ ন্যায্য। 

ঘটনায় রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসও হতবাক। তিনি আয়োজক ও পুলিশ উভয়কেই দোষারোপ করেন। এটিকে কলকাতার ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের জন্য একটি কালো দিন বলে অভিহিত করেন। তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত, আয়োজকের গ্রেপ্তার এবং টিকিটের টাকা ফেরত দেয়াসহ ১২ দফা নির্দেশিকা জারি করেন।

এর কিছুক্ষণ পর ইভেন্টের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। লিয়োনেল মেসিকে কলকাতায় আনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত বলেও জানায় কুলকাতার পুলিশ। টাকা ফেরত দেয়া না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশ প্রধান। 

আরবিএস
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গোৎসবে অতিরিক্ত ভিড়, ভারী বৃষ্টি এবং মাইকে দেওয়া...
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ মুহূর্তে রূপ নিয়েছে গভীর শোকে। শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের কলকাতার উত্তর অংশের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পূজামণ্ডপে বৃষ্টির মাঝে অতিরিক্ত ভিড়, সংকীর্ণ যাতায়াত পথ, অন্ধাকার এবং একটি...
সাপ্তাহিক ছুটির দিন, মুষলধারে বৃষ্টি, মণ্ডপের সংকীর্ণ প্রবেশ ও প্রস্থান পথ এবং অপর্যাপ্ত আলোর বন্দোবস্ত, সব মিলিয়ে এক ভয়ংকর রূপ নিয়েছিল কলকাতার উত্তর অংশের দুর্গোৎসব। শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার...
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোকে। ভারতের কলকাতার একটি জনপ্রিয় পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় ও বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট পদদলনে ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত...
শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন মহাঅষ্টমীতে দেবী দুর্গার জীবন্ত প্রতীক হিসেবে এক কুমারী শিশুকে আরাধনা করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
সৌদি আরবে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি নুরুল হকের পরিবার সরকারের কূটনৈতিক সহায়তায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝে পেয়েছে। প্রাপ্ত এই সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে নিহতের স্বজনেরা আজ...
বরগুনার বেতাগীতে কিশোর গ্যাং, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলবাজি এবং ছড়িয়ে পড়া অনলাইন জুয়া চিরতরে নির্মূল করতে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দুই মাসের (৬০ দিন) সময়সীমা বেঁধে...
কেউ যদি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তবে সে বিষয়ে আইন ও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, এখানে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর