বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, আর্থিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আইনি জটিলতা দূর করার কাজ চলমান। খুব দ্রুতই ওই ব্যাংকগুলোর শাখার নাম ও সাইনবোর্ড পরিবর্তন করা হবে। একই জায়গায় একাধিক শাখা থাকলে সেখানে একটি শাখা থাকবে, বাকিগুলো সরিয়ে নেয়া হবে।
তিনি জানান, ব্যাংকের আমানতকারীরা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক অর্থ ফেরত পাবে। তবে সবাই একসঙ্গে টাকা তুললে দেশের কোনো ব্যাংকই তা দিতে সক্ষম হবে না।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিকস রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘ব্যাংকিং সেক্টর রিফর্ম: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ -শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এসব তথ্য জানান।
গভর্নর বলেন, দেশের অর্থনীতি নির্বাচনকালেও স্থিতিশীল থাকবে। সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সফল হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং ব্যালান্স অব পেমেন্ট শক্ত অবস্থানে রয়েছে। চলতি বছরের শেষে রিজার্ভ ৩৪ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংক খাতের মূল সমস্যা তিনটি— গভর্ন্যান্সের ঘাটতি, বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি এবং বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণের হার বর্তমানে প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
যেসব ব্যাংক মূলধন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারবে না, তাদের জন্য রেজল্যুশন পরিকল্পনা নেয়া হবে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, যে ব্যাংকগুলো সামর্থ্য রাখে তাদের জন্য সময় ও নীতিগত সহায়তা দেয়া হবে।
ইসলামী ব্যাংকের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ থাকলেও আমানত সংগ্রহে সাফল্যের কারণে সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয়নি।
গভর্নর উল্লেখ করেন, পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের আইনগত প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। খুব দ্রুতই শাখার নাম ও সাইনবোর্ড পরিবর্তন করা হবে এবং ডিপোজিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় আমানতকারীদের অর্থ তাৎক্ষণিক ফেরত দেয়া হবে।
৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) একীভূত না করে লিকুইডেশনের পথে নেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের কোনো সহানুভূতি দেখানো হবে না, শুধু আমানতকারীর অর্থ রক্ষার দিকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
গভর্নর জানান, ২০ কোটি টাকার বেশি ঋণ তৃতীয় পক্ষ দিয়ে যাচাই করা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বোর্ড সদস্যদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
ফরেনসিক অডিট সক্ষমতা বাড়াতে ৫০ কর্মকর্তাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও নেতৃত্বের নৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
গত ৯ অক্টোবর আর্থিক সংকটাপন্ন ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ বেসরকারি ব্যাংক (ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক) একীভূত করে একটি ব্যাংক করার সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেয় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ওই বৈঠক।
এরও আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম বাস্তবায়নে আট সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করে সরকার।
পরে ৩০ নভেম্বর চূড়ান্ত অনুমোদন পায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক এবং ২ ডিসেম্বর থেকে এর দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু হয়।
‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের’ কার্যক্রম শুরু
২৪ ব্যাংকের নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতি সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা