ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনার রেশ ধরে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং পুতিনের ঘনিষ্ট উপদেষ্টা দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশ্বের অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অপহরণ অভিযানের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই তালিকায় তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নাম উল্লেখ করেছেন।
রোববার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের বরাতে জানা যায়, বর্তমানে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান মেদভেদেভ বলেছেন, নব্য-নাৎসি মের্জকে অপহরণ করা হবে এই ঘটনাচক্রের একটি চমৎকার মোড়। তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের পরিস্থিতি অবাস্তব কিছু নয়।
মের্জের সমালোচনা করে মেদভেদেভ বলেন, এমনকি জার্মানিতেই তাকে বিচারের মুখোমুখি করার মতো যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে, তাই তাকে সরিয়ে দিলে খুব একটা ক্ষতি হবে না; বিশেষ করে সাধারণ নাগরিকরা যেখানে অহেতুক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেদভেদেভ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রেমলিনের অন্যতম কট্টরপন্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি প্রায়শই ইউক্রেন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে থাকেন।
মেদভেদেভ বলেন, মাদুরোকে অবৈধ বললেও, এটা স্বীকার করতেই হবে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণের মধ্যে স্পষ্ট বেআইনি মনোভাব থাকলেও তার কর্মকাণ্ডে এক ধরনের ধারাবাহিকতা আছে। তিনি এবং তার দল নিজ দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বেশ কঠোর।
মেদভেদেভের মতে, লাতিন আমেরিকাকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পেছনের উঠান মনে করে এবং ট্রাম্প মূলত ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। তিনি মন্তব্য করেন, আঙ্কেল স্যামের মূল অনুপ্রেরণা সব সময় খুব সাধারণ, অন্যের সম্পদ। তিনি আরও সতর্ক করেন, কোনো শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হলে তাকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে গণ্য করা হতো।
এরপর মেদভেদেভ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তার মেয়াদের সময়সীমা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। রাশিয়া শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, নির্বাচন না হওয়ায় জেলেনস্কি এখন একজন অবৈধ নেতা। তবে, জেলেনস্কি ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতায় বহাল আছেন, যা যুদ্ধকালীন সময়ে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেয়।
তিনি বলেন, জেলেনস্কি যদি ওয়াশিংটনের দাবি মানতে ব্যর্থ হন, তবে তিনি মার্কিন সমর্থিত ক্ষমতাচ্যুতির পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র যদি মাদক পাচারের অভিযোগে একজন লাতিন আমেরিকান নেতাকে আটক করতে পারে, তবে ইউক্রেনের নেতৃত্ব যদি ট্রাম্পের সাথে সম্ভাব্য কোনো চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে তাদের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রয়োগ করা হতে পারে।
ইউক্রেনের নেতৃত্ব এবং জাতীয়তাবাদীদের বর্ণনা করতে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে মেদভেদেভ ইঙ্গিত দেন যে, অদূর ভবিষ্যতে জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে নজর ভারতের
বাংলাদেশের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা নেই জাতিসংঘের
মাদুরোকে আদালতে নিতে বিশেষ সুরক্ষিত সাঁজোয়া যান!
ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের লক্ষ্য হতে পারে কোন দেশগুলো?