ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ বর্জনের বিষয়ে মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানান, বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ার প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতেই পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তান সরকার বা পিসিবির পক্ষ থেকে এই প্রথম বর্জনের কারণ হিসেবে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হলো।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশে শাহবাজ শরিফ বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার বিষয়ে আমরা অত্যন্ত পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি। কারণ, খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি হওয়া উচিত নয়। আমরা দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমি মনে করি এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত।
গত রোববার পাকিস্তান সরকার একটি পোস্টে জানায়, তাদের দল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলেও ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে মাঠে নামবে না। এক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার পর আসা সেই পোস্টে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
পিসিবি এ বিষয়ে জনসমক্ষে কিছু না বললেও আইসিসি কয়েক ঘণ্টা পরেই এক বিবৃতিতে প্রতিক্রিয়া জানায়। আইসিসি বলেছে, আমরা আশা করি পিসিবি এই সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাবগুলো বিবেচনা করবে। এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যার অংশীদার এবং সুবিধাভোগী স্বয়ং পাকিস্তানও।
পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে বিষয়টি জানিয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আইসিসি আশা প্রকাশ করেছে, পিসিবি সব অংশীদারদের স্বার্থ রক্ষার্থে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য নিশ্চিত করেছে, বর্জনের সিদ্ধান্তটি আইসিসির ‘দ্বিমুখী নীতি’র সঙ্গে সম্পর্কিত। পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি, যিনি শাহবাজ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও, এর আগে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিকে আইসিসির ‘দ্বিমুখী আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
নিরাপত্তা অজুহাতে বাংলাদেশ সরকার তাদের ক্রিকেট দলকে ভারত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বাংলাদেশকে আসর থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশ চেয়েছিল তাদের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক, যেখানে পাকিস্তানও তাদের সব ম্যাচ খেলবে।
কিন্তু আইসিসি বোর্ড ১৪-২ ভোটে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচগুলো সরিয়ে নেয়ার পরিবর্তে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে কেবল বিসিবি ও পিসিবি ভোট দেয়।
এ প্রসঙ্গে মহসিন নকভি ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতির উদাহরণ টেনে বলেন, আপনি দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করতে পারেন না। আপনি বলতে পারেন না যে একটি দেশ (ভারত) যা খুশি করবে আর অন্য দেশগুলোকে তার উল্টোটা করতে হবে। এ কারণেই আমরা এই অবস্থান নিয়েছি এবং পরিষ্কার করে দিয়েছি যে বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। তারা ক্রিকেটের বড় অংশীদার, তাদের বিশ্বকাপে খেলা উচিত। সূত্র: ইএসপিএন ক্রিকইনফো
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার আগে ইসরাইলের তিন শর্ত