ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আসন্ন আলোচনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। এই আলোচনায় ইসরাইল ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যাতে ইরানের ওপর ‘তিনটি না’ এর শর্ত চাপিয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে, তেহরান সোজা জানিয়ে দিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।
আগামী শুক্রবার মাস্কাটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসরাইল মার্কিন প্রশাসনকে তিনটি কঠোর শর্ত বা ‘থ্রি নো’স’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ ও ‘টাইমস অফ ইসরাইল’ জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রতিনিধিদের স্পষ্ট করে দেবেন, যে কোনো চুক্তিতে ইরানকে অবশ্যই তিনটি বিষয় মেনে নিতে হবে।
সেসব হলো, ইরানকে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে। ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে এবং হিজবুল্লাহ বা হামাসের মতো আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কোনো সহায়তা দেয়া যাবে না।
এই লক্ষ্যে মোসাদ প্রধান এবং ইসরাইলি সেনাপ্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্মানজনক ও ন্যায়সংগত আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ‘তিনটি না’ এর শর্ত মানতে সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী শামখানি জানান, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরান আক্রমণ করে, তবে তেহরান সরাসরি ইসরাইলকে তার প্রতিপক্ষ মনে করবে এবং পাল্টা আঘাত হানবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, একটি ‘চমৎকার নৌবহর’ ইরানের দিকে যাচ্ছে। যদি শুক্রবার ইরান কোনো ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে তারা খুব দ্রুত বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন এবং বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।
একটি মধ্যস্থতাকারী দেশের শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবারের আলোচনায় ইরান যদি দৃশ্যমান কোনো ছাড় না দেয়, তবে কূটনৈতিক পথ বন্ধ হয়ে সামরিক সংঘাতের পথ প্রশস্ত হতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসরাইলি শর্তগুলোকে ‘অসম্ভব বিষয়’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানকে চাপের মুখে আত্মসমর্পণ করাতে, আর ইরান চাইছে মর্যাদা বজায় রেখে সংঘাত এড়াতে। অন্যদিকে, ইসরাইল চাইছে ইরানকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ করতে। এই ত্রিমুখী টানাপোড়েনে ওমানের বৈঠকটি কেবল একটি আলোচনা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি নাকি মহাযুদ্ধ- তা নির্ধারণের লিটমাস টেস্ট হতে যাচ্ছে।
