যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফলতা নিয়ে বড় সংশয় দেখা দিয়েছে। আলোচনার মূল এজেন্ডা কি হবে, তা নিয়েও দুস্তর ব্যবধানে রয়েছে দুই দেশেই।
শুরুতে এই আলোচনা তুরস্কের ইস্তাম্বুলে হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে উভয় পক্ষই ওমানের মাস্কাটে বৈঠক করতে রাজি হয়েছে। ওমান দীর্ঘদিন ধরে এই দুই দেশের মধ্যে সফল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। এই বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
বৈঠক নিয়ে ঐকমত্য হলেও বৈঠকের এজেন্ডা নিয়ে দু’দেশ দুই মেরুতে অবস্থান করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করেছেন, শুধু পরমাণু কর্মসূচি নয়, আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ভাণ্ডার, আঞ্চলিক প্রক্সি গ্রুপগুলোকে সমর্থন এবং মানবাধিকার ইস্যুগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ইরান সরকার আগেই জানিয়ে দেয়, তাদের মিসাইল ও প্রতিরক্ষা কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। তারা শুধু তাদের পরমাণু কর্মসূচি এবং এর ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। মর্যাদা ও সমতার প্রশ্নের কোন ছাড় নয় বলেই স্পষ্ট করেছে তেহরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সতর্ক করে বলেছেন যে, তাঁর খুবই চিন্তিত হওয়া উচিত। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে রক্তক্ষয়ী ব্যবস্থার পর ট্রাম্প দেশটিতে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন। আরব সাগরে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা, বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’, যুদ্ধবিমান এবং গুপ্তচর বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
এই বৈঠকের আগে বেশ কিছু উত্তেজনাকর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। গত মঙ্গলবার আরব সাগরে মার্কিন রণতরীর দিকে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী ট্যাংকার জব্দের চেষ্টা করে ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড।
গত বছরের জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর ইরান তাদের মিসাইল ভাণ্ডার পুনরায় সমৃদ্ধ করেছে এবং যে কোনো হুমকির মুখে তা ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে।
ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে দ্বিমুখী চাপে রয়েছে। একদিকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত, যা সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা তাদের ক্ষমতার ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে বলে শীর্ষ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কিছুটা নমনীয়তা দেখানোর ইঙ্গিত দিলেও মিসাইল কর্মসূচিকে তাদের সার্বভৌমত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে।
শুক্রবার মাস্কাটের এই বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি দুই পক্ষ এজেন্ডা নিয়ে কোনো মধ্যপন্থা খুঁজে না পায়, তবে ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকি এবং আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা আরও প্রবল হয়ে উঠবে।
বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান শেষ, ২১৬ বিদ্রোহী নিহত