কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সুপার এইট নিশ্চিত করেছে ভারত। ঈশান কিষাণের বিধ্বংসী ব্যাটিং আর বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঈশান ঝড়ে ভারতের বড়ো সংগ্রহ দাঁড়ায়। যদিও শুরুতেই অভিষেক শর্মাকে (০) হারায় ভারত। তবে মাত্র ৩৯ বলে ৭৭ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন এই বামহাতি ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও তিনটি ছক্কার মার। তিলক ভার্মার ২৫ এবং অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদবের ৩২ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেটে ১৭৫ রান সংগ্রহ করে ভারত। পাকিস্তানের পক্ষে সাইম আইয়ুব ২৫ রানে তিনটি উইকেট নেন।

পাক ব্যাটিংয়ে বুমরাহ-হার্দিকের আঘাত ১৭৬ রানের লক্ষে খেলতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। হার্দিক পান্ডিয়া ও জাসপ্রিত বুমরাহর তোপে মাত্র ১৩ রানেই তিন উইকেট হারায় তারা। সাহেবজাদা ফারহান (০), সাইম আইয়ুব (৬) এবং অধিনায়ক সালমান আগা (৪) দ্রুত বিদায় নিলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ভারত। উসমান খান সর্বোচ্চ ৪৪ রান করলেও অন্য কেউ দাঁড়াতে পারেননি। ১৮ ওভারে মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
বোলারদের দাপট ভারতের পক্ষে বরুণ চক্রবর্তী, জাসপ্রিত বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়া ও আকসার প্যাটেল প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শেষ দিকে হার্দিক পান্ডিয়া উসমান তারিকের উইকেট উপড়ে ফেলে ভারতের বড়ো জয় নিশ্চিত করেন। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ঈশান কিষাণ।
মাঠের বাইরেও উত্তাপ খেলার লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনায় ছিল দুই দলের ‘নো হ্যান্ডশেক’ বা করমর্দন না করার বিষয়টি। টসের সময় সুরিয়াকুমার যাদব ও সালমান আগাকে হাত মেলাতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এ’ থেকে প্রথম দল হিসেবে সুপার এইটে পা রাখরো ভারত। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য পরবর্তী রাউন্ডের পথ এখন বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ালো।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সুরিয়াকুমার যাদব জানান, দল ঠিক যেভাবে খেলতে চেয়েছিলো, মাঠে তার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি এই জয় ভারতের জন্য। আমরা ঠিক যে ধরনের ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলাম, আজ সেটাই খেলেছি। এই উইকেটে প্রথমে ব্যাটিং করাটাই ছিল সেরা বিকল্প।
শুরুতেই উইকেট হারানোর পর ঈশান কিষাণের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে সূর্য বলেন, ঈশান আজ একদম প্রথা ভেঙে ভিন্ন কিছু চিন্তা করেছিল। শুরুতে এক উইকেট হারানোর পর কাউকে না কাউকে দায়িত্ব নিতে হতো, সে যেভাবে তা পালন করেছে তা ছিল বিস্ময়কর। প্রথমে ব্যাটিং করলে কন্ডিশন বা শিশির নিয়ে নিশ্চিত হওয়া কঠিন, তবে আমাদের মনে হয়েছিলো এই উইকেটে লক্ষ্যটা ১৫ রান বেশি ছিলো। ১৫৫ রান হলে ম্যাচটা অনেক ক্লোজ হতে পারতো।
সবশেষে বোলারদের অবদানের কথা স্বীকার করে অধিনায়ক জানান, পুরো দল হিসেবে তারা জয় উদযাপন করবেন এবং আমেদাবাদের পরবর্তী লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করবেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগা পরাজয়ের দায় স্পিনারদের ওপরই দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের স্পিনারদের দিনটা আজ ভালো যায়নি। কিছু জায়গায় পরিকল্পনার বাস্তবায়ন একদমই ছিলো না। যদিও আমরা আমাদের স্পিনারদের ওপর বিশ্বাস রাখি, কারণ গত ছয় মাস তারা দারুণ করেছে।
ব্যাটিং ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে আঘা বলেন, পাওয়ার প্লে-তেই আমরা অনেক উইকেট হারিয়ে ফেলেছি। প্রথম ইনিংসে উইকেট কিছুটা আঠালো ছিলো, বল গ্রিপ করছিলো। কিন্তু বোলিংয়ে আমাদের এক্সিকিউশন বা বাস্তবায়নের অভাব ছিলো।
পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে দুই দিন পরেই পরের ম্যাচে মনোযোগ দেওয়ার প্রত্যয় জানান পাকিস্তানি অধিনায়ক। তিনি বলেন, এই ধরনের ম্যাচে আবেগ সব সময় তুঙ্গে থাকে, যা আমাদের সামলাতে হবে। দুই দিন পরেই আমাদের পরের ম্যাচ, সেখানে জিতেই আমরা সুপার এইটে যেতে চাই।
এবারও ‘নো হ্যান্ডশেক’, নেপথ্যে কি দিল্লির কড়া বার্তা?