অবশেষে ভুল স্বীকার লিখিতভাবে মুচলেকা দিলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পোড়াগ্রামে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ ঘোষণা করা সেই মসজিদ কমিটি। এর আগে মসজিদ কমিটির নেতারা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এসে মৌখিকভাবে ভুল স্বীকার করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মসজিদ কমিটির সদস্য ও স্থানীয় মুসল্লিরা প্রায় দুই মাস আগে তাদের নেয়া সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। তারা ঘোষণা প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজনের কাছে লিখিতভাবে এ অঙ্গীকার করেন তারা।
তেররশিয়া গ্রামের মাতব্বরদের লিখিত বক্তব্যটি মুচলেকা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউএনও মারুফ আফজাল রাজন।
ইউএনও বলেন, মুচলেকায় তারা উল্লেখ করেছেন, আমরা না বুঝেই নোটিশ ও আইনের কথা উল্লেখ করেছিলাম, তার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা আইন নিজ হাতে তুলে নেব না। কোনো ধরনের জোরপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করব না। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করছি।
পোড়াগ্রাম জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন বলেন, গ্রামে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধের ঘোষণার সঙ্গে মসজিদ কমিটির সকল সদস্যই ছিল, এমনটা নয়। যেমন আমি নিজেই জানি না, কখন সভা করে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিল।
অন্যদিকে মসজিদটির মুয়াজ্জিন জুবায়ের আহম্মেদ জানান, মহল্লায় জারি করেন নোটিশটি আইনগতভাবে আমাদের ভুল ছিল তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি উপজেলা পরিষদে গিয়ে আমাদের নিজেদের ভুলের বিষয়টি তুলে ধরব আর সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়ে এ ঘটনায় লিখিতভাবে ভুল স্বীকার করেছি।
এর আগে চরাঞ্চলের ইসলামপুর ইউনিয়নের পোড়াগ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা উল্লেখ করে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। গ্রামের একটি জামে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় কিছু মুসল্লি এই সিদ্ধান্ত দেন। ‘গানবাজনা বা বাদ্যযন্ত্রমুক্ত সমাজ গঠনের সিদ্ধান্ত’ শিরোনামে ওই গ্রামে একটি নোটিশ প্রচার করা হয়।
নোটিশে লেখা ছিল, ‘এতদ্বারা পোড়াগ্রামবাসীর পক্ষ হতে জানানো যাচ্ছে যে, আমরা আমাদের গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা এবং পারিবারিক শান্তি রক্ষার জন্য গ্রামের গণসম্মতির ভিত্তিতে শিরক, বিদ’আত, গান–বাজনা ও অপসংস্কৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম ও ক্ষতিকর হওয়ায় গ্রামের সামাজিক কল্যাণের স্বার্থে আজ থেকে আমাদের গ্রামে প্রকাশ্যে উচ্চশব্দে বাদ্যযন্ত্র বা গান–বাজনা সম্পূর্ণরূপে হারাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। এর পরেও যারা বাদ্যযন্ত্র বাজাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্ট্যাম্পে লেখা ওই নোটিশে মসজিদ কমিটি ও গ্রামবাসীর পক্ষে ৩৪ জন স্বাক্ষর করেন। নোটিশ জারির পর থেকে গ্রামে প্রকাশ্যে গানবাজনা বন্ধ ছিল বলে স্থানীয় লোকজন জানান।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ গত বৃহস্পতিবার ওই গ্রামে যায়। সেখান থেকে ‘এই গ্রামে গানবাজনা ও সকল প্রকার বাদ্যযন্ত্র সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ’ লেখা ব্যানার-ফেস্টুন এবং লিখিত নোটিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।
ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দু'জন ভারতে গ্রেপ্তার
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব: শাহজলাল থেকে ১০ দিনে ৩২০ ফ্লাইট বাতিল