বাবা আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ঘিরে রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। ৫৬ বছর বয়সী এই নেতার জীবন রক্ষায় এবার মাঠে নেমেছে ইরানের সব থেকে দুর্ধর্ষ এবং রক্তপিপাসু হিসেবে পরিচিত কমান্ডো বাহিনী ‘নোপো’। কালো পোশাকে সজ্জিত এই বিশেষ বাহিনীটি এখন মোজতবার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে।
নোপো হলো ‘নিরুয়ে ভিজে পাসদারান বেলায়েত’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, যার অর্থ ‘সর্বোচ্চ নেতার সুরক্ষায় নিয়োজিত বিশেষ বাহিনী’। ১৯৯১ সালে গঠিত এই অভিজাত ইউনিটটি ইরানের সাধারণ পুলিশ বা রেভোলিউশনারি গার্ডস থেকেও অনেক বেশি নিষ্ঠুর এবং মারাত্মক হিসেবে পরিচিত।
এদেরকে ইরানের ‘বেস্ট’ স্পেশাল ফোর্স বলা হয়। জিম্মি উদ্ধার এদের মূল কাজ হলেও, বাস্তবে তারা বিরোধীদের দমনে সিদ্ধহস্ত।১৯৯৯ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের বিক্ষোভ এবং সাম্প্রতিক মাহসা আমিনি পরবর্তী আন্দোলন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।
এই বাহিনীর একমাত্র আনুগত্য সরাসরি সুপ্রিম লিডারের প্রতি। মৃত আলী খামেনি অন্য কোনো নিরাপত্তা বাহিনীকে বিশ্বাস না করলেও, এই ‘ব্ল্যাক-ক্ল্যাড’ বা কালো পোশাকীদের ওপর ছিল তাঁর অগাধ আস্থা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে যখন আলী খামেনি নিহত হন, তখন মোজতবাও গুরুতর জখম হয়েছেন বলে গুঞ্জন ওঠে। নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি অনুযায়ী, তাঁর পায়ে চোট লেগেছে এবং তিনি একটি উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন গোপন স্থানে রয়েছেন।
তবে এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্টের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ান। টেলিগ্রামে এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, আমি খোঁজ নিয়েছি, মোজতবা খামেনেই পুরোপুরি সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। তাঁর আহত হওয়ার খবর কেবলই গুজব।

যদিও রোববার সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর মোজতবা এখনও জাতির উদ্দেশ্যে কোনো ভাষণ দেননি কিংবা কোনো লিখিত বিবৃতিও প্রকাশ করেননি।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালী রেভোলিউশনারি গার্ডস এক প্রকার গায়ের জোরেই সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে মোজতবাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। তাদের ধারণা, মোজতবা তাঁর বাবার চেয়েও অনেক বেশি ‘নমনীয়’ হবেন এবং আইআরজিসির হার্ডলাইন নীতিগুলো চোখ বুজে সমর্থন করবেন।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, মোজতবার এই নির্বাচন ইরানকে একটি পুরোদস্তুর সামরিক রাষ্ট্রে পরিণত করবে। ধর্মের আবরণে আবৃত থাকলেও পর্দার আড়ালে সব ক্ষমতা থাকবে বন্দুকধারীদের হাতে।
বর্তমানে ইরানের বিভিন্ন কারাগার, যেখানে রাজনৈতিক বন্দিরা রয়েছে, সেখানেও শত শত নোপো সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনোভাবেই বিদ্রোহ দানা বাঁধতে না পারে। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে মোজতবা যখন প্রথমবার প্রকাশ্যে আসবেন, তখন তাঁর চারপাশে নোপোর এই কালো পোশাকধারীদের উপস্থিতিই বলে দেবে ইরান এখন কতটা কঠোর অবস্থানে।
মোজতবাকে নির্মূলে ইসরাইলি অভিযানে সমর্থন দেবেন ট্রাম্প!