ইরানের সামরিক কৌশল এখন আর শুধু রক্ষণাত্মক অবস্থানে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তেহরান এখন ‘আঘাতের বদলে আঘাত’ এবং ‘ক্ষতের বদলে ক্ষত’ দেওয়ার এক বিধ্বংসী রণকৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক গতিবিধি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আসন্ন আঞ্চলিক সংঘাতের জন্য তারা এক বহুমুখী ও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা সাজিয়েছে, যা আগের ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ।
ইরানের সামরিক পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হলো ‘অফেন্সিভ ডিফেন্স’ বা আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা। এর অর্থ হলো, শত্রু যদি ইরানের সার্বভৌমত্বের দিকে হাত বাড়ায়, তবে ইরান শুধু নিজের সীমানায় বসে ডিফেন্স করবে না, বরং শত্রুর ডেরায় ঢুকে আঘাত হানবে। এবারের লক্ষ্যবস্তু শুধু ১২০০ থেকে ১৬০০ কিলোমিটার দূরের ইসরাইলি ভূখণ্ড নয়, বরং সীমান্তের কাছে থাকা শত্রু ঘাঁটিগুলোকেও গুঁড়িয়ে দেয়ার ছক কষা হয়েছে।

আগের যুদ্ধে আকাশপথ ও মিসাইল শক্তির ওপর জোর দেওয়া হলেও, এবারের লড়াইয়ে মূল স্তম্ভ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে ইরান সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসি-র গ্রাউন্ড ফোর্স বা স্থলবাহিনী। কোরআনের ভাষায় ‘বুনিয়ানুন মারসুস’ বা সিসাঢালা প্রাচীরের মতো তারা সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে। এই বাহিনীর বিশেষত্ব হলো, উচ্চপর্যায়ের কমান্ড ছাড়াই প্রতিটি ইউনিট স্বাধীনভাবে অপারেশন চালাতে সক্ষম। বিশেষ করে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এবং পশ্চিম সীমান্তে যে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা বিদেশি প্রক্সি গোষ্ঠীর নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রুখতে তারা এখন ‘ফিঙ্গার অন দ্য ট্রিগার’ বা ট্রিগারে আঙুল রেখে প্রস্তুত।
সম্প্রতি পারস্য উপসাগরের দ্বীপগুলোতে আইআরজিসি যে বিশাল সামরিক মহড়া চালিয়েছে, তা যে শুধুই কোনো সাধারণ ড্রিল নয়। এটি ছিল মূলত আগ্রাসনকারীদের ‘পা ভেঙে দেওয়ার’ একটি মহড়া। এই মহড়ার মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে, তারা শুধু কাগজ-কলমে পরিকল্পনা করেনি, বরং বাস্তব ভূমিতে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রিহার্সালও সেরে ফেলেছে।

ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শত্রু যদি সরাসরি সীমান্ত লঙ্ঘন নাও করে, তবুও যদি তারা ইরানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তবে ইরান সেই নিরাপত্তা বলয় রক্ষায় সীমান্তের ওপারে গিয়েও আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং জাতীয় অখণ্ডতা বজায় রাখতে ইরানের প্রতিটি সেনা এখন পূর্ণ সমর প্রস্তুতিতে রয়েছে।
সহজ কথায়, ইরানের মাটি থেকে যারা আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানোর দুঃস্বপ্ন দেখছে, তাদের জন্য তেহরান এক দুর্ভেদ্য দুর্গ এবং বিধ্বংসী আগুনের কুণ্ডলী তৈরি করে রেখেছে। আক্রমণ হলে তার পাল্টা জবাব হবে এতটাই তীব্র যে, শত্রুর পালানোর পথটুকুও হয়তো অবশিষ্ট থাকবে না।
তথ্যসূত্র: খামেনি.আইআর নিউজ
