ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ আজ বুধবার শেষ হয়েছে। এরইমধ্যে বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় ভিন্ন ভিন্ন চিত্র উঠে এলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিজেপিকে এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি সমীক্ষায় দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ছুঁয়েছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। তবে কিছু সমীক্ষায় আবার তৃণমূলের এগিয়ে থাকার কথাও বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস স্পষ্ট পাওয়া যাচ্ছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ছিল পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ। স্থানীয় সময় সকাল সাতটা থেকে শুরু হয়ে রাজ্যের আট জেলায় ১৪২টি আসনে একযোগে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল।

২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ২০২১ সালের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিল তৃণমূল। সে বছর বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন।
কী বলছে বুথফেরত সমীক্ষা?
দেশটির বেসরকারি সংস্থা ম্যাট্রিজের বুথফেরত সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন পেতে চলেছে বিজেপি। তৃণমূল পাচ্ছে ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন। অন্যান্যরা ছয় থেকে ১০টি আসন পেতে পারে।
এদিকে বাম বা কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে খাতা খুলতে পারবে না বলেও দাবি করা হয়েছে ম্যাট্রিজের সমীক্ষায়।

চাণক্য স্ট্র্যাটেজি যে সমীক্ষা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি ১৫০ পেরিয়ে গেছে। ১৫০ থেকে ১৬০টি আসন পেতে পারে মোদীর দল। তৃণমূল পাচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০টি আসন। অন্যান্যদের এই সমীক্ষাতেও ৬ থেকে ১০টি আসন দেওয়া হয়েছে। তবে বাম এবং কংগ্রেসের আসন শূন্য।
অন্যদিকে 'পিপল্স পাল্স' সমীক্ষার বরাতে সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার বলছে, সংস্থাটি তৃণমূলকে এগিয়ে রেখেছে। মমতার দল পাচ্ছে ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ৯৫ থেকে ১১০টি আসন।
অন্যান্যদের মধ্যে কংগ্রেস ১ থেকে ৩টি আসন এবং বামেরা শূন্য থেকে একটি আসনে জয় পেতে পারে বলে এই সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।

পি-মার্কের সমীক্ষা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকেই এগিয়ে রাখছে। সংস্থাটির মতে, বিজেপি ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসনে জিততে পারে। তৃণমূল পেতে পারে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন। অন্যান্যদের কোনো আসন দেওয়া হয়নি এই সমীক্ষায়।
এছাড়া আরেক ভারতীয় সংস্থা প্রজা পোল-এর সমীক্ষায় বিজেপিকে ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তৃণমূল পেতে পারে ৮৫ থেকে ১১০টি আসন।
এছাড়া অন্যান্য দলগুলো শূন্য থেকে পাঁচটি আসনে জিততে পারে বলে এই সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর এ বছর ভোটের হার অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক বেশি।
ভারতের নির্বাচন কমিশন বলছে, পশ্চিমবঙ্গের ভোটদানের হার নজির গড়ে ফেলেছে এরইধ্যেই। প্রথম দফায় ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে রাজ্যটিতে।
তবে দ্বিতীয় দফার ভোটদানের চূড়ান্ত হার এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তার আগেই বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে দিলো বিভিন্ন সংস্থা।
আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে ভোটগণনা হবে। ভোটের চূড়ান্ত ফল জানা যাবে সে দিনই। শেষ মুহূর্তে বুথফেরত সমীক্ষার হিসাব উল্টে যাবে কি না, ভোটগণনার পরেই তা স্পষ্ট হবে।
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের পরিকল্পনা ট্রাম্পের
ভেঙে দেয়া হলো লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড, নিয়ন্ত্রণে সরকার