ইসরাইলের বিরুদ্ধে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচ বয়কট করার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে আয়ারল্যান্ডের ফুটবল অঙ্গন। আয়ারল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় ফুটবলারদের পাশাপাশি দেশটির প্রখ্যাত তারকারাও এই প্রচারণায় শামিল হয়েছেন। গাজায় চলমান পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলি দলগুলোর খেলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আয়ারল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে একটি খোলা চিঠি দেয়া হয়েছে।
আয়ারল্যান্ডের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে গঠিত প্রচার গোষ্ঠী ‘আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইন’ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ডের (এফএআই) কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছে। ‘স্টপ দ্য গেম’ শীর্ষক এই চিঠিতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গাজায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ফিলিস্তিনের অধিকৃত জমিতে ফুটবল খেলার অনুমতি দিয়ে ইসরাইল উয়েফা ও ফিফার বিধিমালা লঙ্ঘন করছে। প্রচারকারীদের দাবি, গত বছর এফএআই’র ৯৩ শতাংশ সদস্যই ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে স্থগিত করার পক্ষে ভোট দেয়, যা কর্তৃপক্ষের সম্মান করা উচিত।
এই প্রচারণায় সংহতি প্রকাশ করেছেন লিগ অব আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা, সাবেক কোচ ব্রায়ান কের এবং দু’বার বছরের সেরা নারী ফুটবলারের খেতাব জেতা লুইস কুইন। এ ছাড়াও অস্কার মনোনীত অভিনেতা স্টিফেন রিয়া, রক ব্যান্ড ফন্টেইন্স ডিসি এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ক্রিস্টি মুর এই চিঠিতে সই করেছেন।
শ্যামরক রোভার্সের অধিনায়ক রবার্তো লোপেস এক বিবৃতিতে বলেন, ফিলিস্তিনের মানবিক বিপর্যয়কে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না; যে কোনো ক্রীড়া বিবেচনার চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি।
তারকাদের এই চাপের মুখেও আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন জানিয়েছেন যে, ম্যাচ দুটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হওয়া উচিত। তাঁর মতে, রাজনীতি ও খেলাধুলাকে আলাদা রাখা চ্যালেঞ্জিং হলেও এটি জরুরি। অন্যদিকে, এফএআই’র প্রধান নির্বাহী ডেভিড কৌরেল সতর্ক করে বলেছেন, ম্যাচ বয়কট করলে আইরিশ ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বড় কোনো টুর্নামেন্ট থেকে আয়ারল্যান্ড অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
আইরিশ ফুটবল সমর্থকদের একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরাইলের বিরুদ্ধে এই ম্যাচ আয়োজনের বিপক্ষে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ অক্টোবর ডাবলিনের আভিভা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের ইসরাইলকে আতিথ্য দেয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরাইলের ‘হোম’ ম্যাচটি একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, সত্তরের দশকে এশীয় ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) থেকে বাদ পড়ার পর আশির দশক থেকে ইসরাইল উয়েফার অন্তর্ভুক্ত হয়ে খেলছে। বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের এই বয়কট আন্দোলন বিশ্ব ফুটবলে নতুন কোনো নজির তৈরি করে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে কূটনৈতিক ও ক্রীড়া মহল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ছোকরার কাছে ডিবলিং খেয়ে মেজাজ হারালেন নেইমার!
আর্জেন্টিনার হয়ে প্রেস্তিয়ানির বিশ্বকাপ খেলা অনিশ্চিত