ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ‘পোস্টার বয়’ নেইমার জুনিয়র এবং তাঁরই এক সময়ের আইডল রবিনহোর ছেলের মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত এক লড়াই নিয়ে এখন তোলপাড় ফুটবল বিশ্ব। ট্রেইনিং গ্রাউন্ডের সেই চড়কাণ্ডের পর অবশেষে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইলেন নেইমার।
বয়স ৩৪ হলেও নেইমারের মেজাজ যে এখনো সেই ১৮ বছরের কিশোরের মতোই খিটখিটে, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। নিজের দলেরই জুনিয়র সতীর্থ, অর্থাৎ কিংবদন্তি রবিনহোর ছেলে রবিনহো জুনিয়রকে চড় মেরে বসার পর অবশেষে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন এই ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা।

মঙ্গলবার প্যারাগুয়েতে রেকোলেতার বিপক্ষে সান্তোসের ১-১ ড্রয়ের পর সাংবাদিকদের সামনে নিজের ভুল স্বীকার করে নেইমার বলেন, যদি আপনারা সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষমা শুনতে চান, তবে এই যে আমি ক্ষমা চাইছি। ওর কাছে এবং ওর পরিবারের কাছে আমি আগেই ক্ষমা চেয়েছি। আমি সীমা লঙ্ঘন করেছিলাম।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত রোববার ট্রেইনিং সেশনের সময় ১৮ বছর বয়সী রবিনহো জুনিয়র বল নিয়ে ড্রিবলিং করে নেইমারকে কাটিয়ে বেরিয়ে যান। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার ইগোতে যেন এতেই চোট লাগে! জুনিয়র সতীর্থের কাছে এভাবে নাস্তানাবুদ হওয়া মেনে নিতে না পেরে মেজাজ হারিয়ে রবিনহো জুনিয়রকে চড় মেরে বসেন নেইমার।

এই ঘটনা জানাজানি হতেই সান্তোস ক্লাব কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার ম্যাচ শেষে রবিনহো জুনিয়র নিশ্চিত করেছেন যে নেইমার তাঁকে চড় মেরেছিলেন। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, বিষয়টি আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছিল কারণ উনি ছোটবেলা থেকেই আমার আইডল। তবে, আমি আমার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলেছি এবং ওঁর ক্ষমা গ্রহণ করেছি। এখন সব মিটে গেছে। ম্যাচে নেইমার গোল করার পর রবিনহো জুনিয়রকে জড়িয়ে ধরে উদযাপন করেন, যা দেখে মনে হয়েছে বরফ কিছুটা গলেছে। নেইমারের দাবি, ওকে আমি খুব পছন্দ করি। ফুটবলে বন্ধু বা ভাইয়ের সাথে এমন ঝগড়া হয়েই থাকে।
বারবার চোটের কবলে পড়া নেইমার ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেননি। তবে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেতে তিনি মরিয়া। কোচ কার্লো আনচেলত্তি ১৮ মে চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন। মাঠের বাইরের এই বিতর্ক তাঁর দলে ফেরার পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

উল্লেখ্য, রবিনহো জুনিয়রের বাবা এবং নেইমারের প্রাক্তন সতীর্থ ৪২ বছর বয়সী রবিনহো বর্তমানে গণধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ব্রাজিলের কারাগারে সাজা খাটছেন। বাবার এমন দুঃসময়ে আইডল নেইমারের কাছ থেকে পাওয়া এই ব্যবহার তরুণ রবিনহো জুনিয়রের জন্য যে মোটেও সুখকর ছিল না, তা বলাই বাহুল্য। তবে শেষ পর্যন্ত ‘সরি’ বলে আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন নেইমার। এখন দেখার বিষয়, আনচেলত্তির গুড বুকে তাঁর নাম ওঠে কি না!
