ফুটবল বিশ্বকাপের কিক-অফ হতে আর মাত্র পাঁচ সপ্তাহ বাকি, কিন্তু আমেরিকার বিলাসবহুল হোটেল মালিকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। যে টুর্নামেন্ট ঘিরে ডলারের বৃষ্টির আশা করা হয়েছিল, সেই ‘গ্রেট আমেরিকান ড্রিম’ এখন ফিকে হতে শুরু করেছে। আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক সমীক্ষা থেকে উঠে এসেছে হোটেল ব্যবসার এমন ম্লান পরিস্থিতি।
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর দোরগোড়ায়, কিন্তু মার্কিন মুলুকের হোটেলগুলোতে নেই সেই চিরচেনা উৎসবের আমেজ। নিউইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, সবখানেই যেন এক ‘ঠাণ্ডা লড়াই’ চলছে। হোটেল সমিতির রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি আয়োজক শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেল মালিক জানিয়েছেন যে, বুকিংয়ের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। অবস্থা এতটাই বেগতিক, কানসাস সিটির মতো জায়গাগুলোতে জুন-জুলাই মাসের স্বাভাবিক বুকিং রেটও এবার ছুঁতে পারছে না হোটেলগুলো।
এই মন্দার পেছনে ভিলেন হিসেবে কাজ করছে ভিসা জটিলতা। প্রায় ৬৫ শতাংশ হোটেল মালিক মনে করছেন, আমেরিকার বর্তমান প্রশাসনের কড়া ভিসা নীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাই পর্যটকদের দূরে সরিয়ে রাখছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটা করে বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়া নিয়ে গর্ব করছেন, কিন্তু তাঁর সরকারের ‘কড়া স্ক্রিনিং’ আর ভিসার বিধিনিষেধ বিদেশের ফুটবল ভক্তদের জন্য এক দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সমর্থকরা এখন আমেরিকায় ভ্রমনের বদলে ঘরে বসে খেলা দেখাটাকেই বেশি নিরাপদ মনে করছেন।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, বস্টন, ফিলাডেলফিয়া বা সান ফ্রান্সিসকোর মতো শহরগুলোতে অনেক হোটেল মালিক এই মেগা ইভেন্টকে রসিকতা করে ‘নন-ইভেন্ট’ বা গুরুত্বহীন ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করছেন। আগেভাগে ফিফার পক্ষ থেকে ঢালাওভাবে রুম বুক করে রাখা হয়েছিল, যা দেখে হোটেলগুলো দাম বাড়িয়ে বসেছিল। কিন্তু এখন সেই বাল্ক বুকিংগুলো বাতিলের হিড়িক পড়ায় হোটেল মালিকরা বুঝছেন, তাঁদের সামনে শুধু একটি ‘কৃত্রিম চাহিদা’ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
হোটেল বুকিং কমার পেছনে অন্য একটি কারণ হলো টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের জন্যও সেকেন্ডারি মার্কেটে যেভাবে কালোবাজারি চলছে, তাতে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ছে। তার ওপর আমেরিকার এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়ার আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়া তো আছেই। ভক্তরা বলছেন, খেলা দেখার চেয়ে ওই টাকা দিয়ে একটা ছোটখাটো দ্বীপ কেনা ভালো!
হোটেল সমিতির প্রেসিডেন্ট রোসানা মাইয়েত্তা অবশ্য এখনও আশার আলো দেখছেন। তাঁর মতে, হাতে যে ক’দিন সময় আছে, তার মধ্যে যদি ইউএস সরকার এবং ফিফা মিলে পর্যটকদের জন্য একটি ‘সহজ ও বাধাহীন’ ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে পারে, তবে হয়তো শেষ মুহূর্তে কিছু ডলার পকেটে আসবে।
১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে এবং ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে হবে ফাইনাল। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াই শুরুর আগে আমেরিকার হোটেল রুমগুলো ফুটবলের রঙে রঙিন হয়, নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া নীতির যাঁতাকলে পড়ে এবার ‘খালি রুম’ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় আঙ্কেল স্যামকে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইসরাইলের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের ডাকে উত্তাল আয়ারল্যান্ড
ছোকরার কাছে ডিবলিং খেয়ে মেজাজ হারালেন নেইমার!
আর্জেন্টিনার হয়ে প্রেস্তিয়ানির বিশ্বকাপ খেলা অনিশ্চিত