বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩–২ ব্যবধানে হারের পর কোনো রাখঢাক না রেখেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, তার দল অবিচারের শিকার হয়েছে এবং মাঠের ভেতরের ও বাইরের বিভিন্ন বিষয় দিয়ে ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে।

ম্যাচ চলাকালীন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসান। যোগ করা সময়ে ভিএআর পর্যালোচনা না করার প্রতিবাদ জানালে তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। তখন রেফারির সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়। এমনকি উত্তেজনার একপর্যায়ে হাসানের সহকারীকে লাল কার্ড দেখতে হয়। পুরো ম্যাচে মিসর পাঁচটি হলুদ কার্ড পেলেও আর্জেন্টিনার কোনো খেলোয়াড় কার্ড দেখেননি।
এদিকে ম্যাচ শেষে নিজের হতাশা ও ক্ষোভ লুকাতে চাননি মিসর কোচ। হোসাম হাসান বলেন, আমি এই ফলাফলে সন্তুষ্ট নই। সুন্দর শব্দ বেছে নিয়ে বা ‘দুর্ভাগ্য’ বলে বিষয়টাকে হালকা করতে চাই না। আজ আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি।
রেফারির সঙ্গে মাঠে কী কথা হয়েছিলো, তা খোলাসা করে হাসান বলেন, আমি শুধু বলছিলাম, ‘এটা অন্যায়।’ আমি বলছিলাম, হয়তো তার (রেফারি) মনে কোনো ক্ষতচিহ্ন আছে বা কিছু লুকানোর আছে। যার কিছু লুকানোর থাকে, সে অনেক সময় তা ঢাকতে গিয়ে ব্যর্থ হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের তুলনায় আমাদের খেলা ভালো ছিলো। আমরা সবদিক থেকেই ভালো ছিলাম। মনে হচ্ছে, রেফারির ওপর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিলো, যার ফলে এই ফলাফলটি এসেছে।
শুধু রেফারিং নয়, ম্যাচ শুরুর সময় নিয়েও আয়োজকদের তীব্র সমালোচনা করেন মিসর কোচ। দুপুর ১২টায় ম্যাচ আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, যারা এই ম্যাচগুলোর সময়সূচী নির্ধারণ করে, তারা জীবনে কখনো ফুটবল খেলেনি। একটা ফুটবল ম্যাচ কখনো দুপুরে শুরু হতে পারে না।
ব্যঙ্গাত্মক সুরে হাসান আরও যোগ করেন, দুপুরে আপনি হাঁটতে বের হন, একটু তাজা বাতাস নিতে যান, হয়তো ব্রাঞ্চ (সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের মাঝামাঝি খাবার) করতে যান, কিন্তু আপনি মাঠে ফুটবল খেলতে যান না। ওই সময়ে খেলতে নামলে ফুটবলাররা খাবে কখন? দুপুরে খেলার জন্য তাদের কি সকাল সাড়ে সাতটায় খাবার খেতে হবে? এটা কি অন্য সবাইকে টেক্কা দেওয়ার জন্য করা হচ্ছে?

রেফারির ‘সুবিধা’ নিয়ে আর্জেন্টিনা জিতেছে দাবি করে ক্ষুব্ধ হাসান জানিয়েছেন, এই বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচ তিনি দেখবেন না। সাধারণ জীবনের বৈষম্য মেনে নেওয়া গেলেও খেলাধুলায় কেন এমন অন্যায় আচরণ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, সাধারণ জীবন, স্বাভাবিক জীবনে বৈষম্য থাকে, ঠিক আছে। কিন্তু খেলাধুলায় কোনো ন্যায্যতা নেই কেন? এখানে কেন বৈষম্য থাকবে? ফুটবলে কেন বৈষম্য থাকবে?
বঞ্চিত হওয়ার আক্ষেপ থাকলেও নিজের শিষ্যদের বাহবা দিতে ভুলেননি মিসর কোচ। তিনি বলেন, মাঠের ভেতরে ও বাইরে অনেক কিছুই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব ছিলো স্পষ্ট। তবে আমি আমার ছেলেদের নিয়ে গর্বিত। আমরা যা পাওয়ার যোগ্য ছিলাম, তা আমাদের দেওয়া হয়নি।
অপরদিকে, আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’ জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মিসর। মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা ফিফার কাছে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তার সহকারীদের এই টুর্নামেন্টে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।
মিসরের মূল আপত্তি দুটি জায়গায়—প্রথমত, ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে তাদের গোল বাতিল করা এবং দ্বিতীয়ত, আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের বিল্ড-আপে ফাউল থাকলেও তা ভিএআরে পরীক্ষা না করা।
