তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে দমন করার চেষ্টা বা ‘দাদাগিরি’ চালিয়ে আলোচনার কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। ওয়াশিংটনকে যদি সত্যিই ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে তাদের চাপ সৃষ্টিকারী নীতি ও ভাষার ব্যবহার অবিলম্বে বদলাতে হবে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাদের ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি সংশোধন করতে হবে। কারণ বলপ্রয়োগ ও ভয় দেখানোর ওপর ভরসা করলে তা শুধু দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকেই জটিল করে তুলবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও বৈধ অধিকারের ভিত্তিতে আমেরিকার উচিত ইরানের প্রতি তাদের দেয়া সব প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা। ইরানি জাতির প্রতিরোধের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যই তাদের মূল শক্তি এবং যে কোনো বহিরাগত হুমকি বা চাপ এই একতাবদ্ধতার কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যকে মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তির শিক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা- সব কটি ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সর্বোচ্চ সহযোগিতার জন্য তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলি শাসন ও ইসলামের শত্রুদের সব ধরনের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার জন্য মুসলিম দেশগুলোর একতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধক শক্তি। আমরা যদি একতাবদ্ধ হতে পারি, তবে শত্রুরা কখনো তাদের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারবে না।
বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট চলমান সংকট সমাধানে পাকিস্তানের গঠনমূলক মধ্যস্থতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক সদিচ্ছা ও সহযোগিতার মাধ্যমে ‘ইসলামাবাদ স্মারক’-এর লক্ষ্যসমূহ অর্জিত হবে।
জবাবে ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনার জন্য প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে কূটনৈতিক আলোচনা অত্যন্ত নিখুঁত ও সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া দরকার।
পাক সেনাপ্রধান আশ্বাস দেন যে, সংকট নিরসনে পাকিস্তান তাদের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা দৃঢ়তার সঙ্গে চালিয়ে যাবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, এই সংকটের অবসান ঘটলে এ অঞ্চলের পুনর্গঠন, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও যৌথ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।
তথ্যসূত্র: মেহর নিউজ
ইরান-আমেরিকা সমঝোতা ফেরাতে আশাবাদী পাকিস্তান