ত্রিনিদাদ ও টোবাগো প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র ও ক্যারিকম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পররাষ্ট্র ও ক্যারিকম বিষয়ক মন্ত্রী এস. এম. সোবার্স নিজ নিজ সরকারের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার দৃঢ় আগ্রহের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, উভয় দেশ কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ, গ্রুপ অব ৭৭ (জি-৭৭) এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মের সদস্য হিসেবে পারস্পরিকভাবে সম্পৃক্ত।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই সমঝোতা স্মারক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা, বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, কারিগরি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি নিয়ে মতবিনিময়ের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জ্বালানি খাত দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার নিকট ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে। এ লক্ষ্যে তিনি ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পক্ষ থেকে চিহ্নিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ—যার মধ্যে ন্যাশনাল গ্যাস কোম্পানি, আটলান্টিক এলএনজি, ফিনিক্স পার্ক গ্যাস প্রসেসরস এবং উপযুক্ত কোনো অ্যামোনিয়া/সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে—এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে দ্রুত একটি কারিগরি বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে মন্ত্রী সোবার্সের সহযোগিতা কামনা করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২০২৭–২০২৮ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর নির্বাচিত হওয়ায় দেশটিকে অভিনন্দন জানান।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, ক্রমহ্রাসমান মানবিক সহায়তা এবং চলমান অস্থিতিশীলতার মধ্যেও বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে চলেছে। তিনি ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কাছে গঠনমূলক সমর্থন কামনা করেন, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেশটির আসন্ন মেয়াদকালে, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের টেকসই সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকে এবং রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা জোরদার হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্রিকেটকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে একটি স্বাভাবিক সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং যুব ও নারী ক্রিকেট, কোচিং, ক্রীড়াবিজ্ঞান এবং ক্রীড়া প্রশাসনে পারস্পরিক বিনিময়ের প্রস্তাব দেন।
উভয় পক্ষই আস্থা প্রকাশ করে যে, আজ স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কাঠামোবদ্ধ, অর্থবহ ও কার্যকরমুখী অংশীদারত্বে রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাতিসংঘ মহাসচিবের অভিনন্দন
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের জন্য রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন