নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা উজ্জ্বল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের রায়ে নির্বাচিত একটি সরকারের প্রধান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এটা গণতান্ত্রের এক বিশাল বলিষ্ঠ পদচারণা ছিল এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় স্বার্থকে তিনি অটুট রেখেছেন, সবচাইতে বেশি সুরক্ষা দিয়েছেন এবং বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার মাধ্যমে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করে প্রতিটি দেশের সাথে আমরা অংশীদারিত্ব চাই, বিনিয়োগ চাই, বাণিজ্য চাই, যার মাধ্যমে আমরা স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে পারবো, স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে পারব। প্রতিটি মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
বৈশ্বিক কূটনীতিতে এটি আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার একটা দৃঢ় প্রত্যয় এবং আমরা বিশ্বাস করি সমতা এবং ন্যায় বিচারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ একটা ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের হাত ধরে শুধু বাংলাদেশের ভেতরে না বিশ্বের শান্তি এবং সমৃদ্ধি রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটা বড় ভূমিকা পালন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি বিশ্বসভায়(জাতিসংঘে) বাংলাদেশ কীভাবে আত্মবিশ্বাসী ছিল।
মাহদী আমিন বলেন, আমাদের যে আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস এবং আত্মপরিচয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করে দিয়েছেন তার প্রতিটি পরতে পরতে ছিল বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত হয়েছে
এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, এটা স্পষ্ট যে উনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার বার্তা দিয়েছেন এবং যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে আজকে রাষ্ট্র পরিচালনা বিএনপি রয়েছে। কীভাবে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে? সমস্যার সমাধান হবে স্বনির্ভর, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে? জনকল্যাণমূলক এবং মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা হবে সেটার জন্য উনি দেশের অভ্যন্তরীণ সকল পরিকল্পনা প্রোগ্রাম এবং পলিসিস তুলে ধরেছেন।
একই সাথে একটি গণতান্ত্রিক শান্তিকামী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ কী ভূমিকা রাখতে পারে সেটিও সুস্পষ্ট রূপরেখা তিনি দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সেটি গৃহীত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি যারা বিশ্বনেতা রয়েছেন শুধু বাংলাদেশ বা তার আশেপাশের দেশগুলো থেকে না এবং উনি ১১টা মিটিংয়ে চার দিনে করেছেন সেখানে দেখবেন বিশ্বের বিভিন্ন রিজিয়ন থেকে, বিভিন্ন জিওগ্রাফি থেকে রিপ্রেজেন্টেশন রয়েছে। এর বাইরেও যখন তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইনভাইটেশনে গিয়েছিলেন সেখানে অনেক দেশের সরকার প্রধান ছিলেন, যখন জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন সেখানেও বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান ছিলেন। উনাদের সাথে খুব আন্তরিক হৃদ্রতাপূর্ণ সম্পর্ক হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এমন একজন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন যার রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ। সুতরাং সে কারণেই সকল বিশ্বনেতাদের কাছে উনি সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছেন, মর্যাদা পেয়েছেন।
উনার সম্মান আর মর্যাদা মানে বাংলাদেশের আত্মসম্মান, বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা। এটি বিগত সময়ের চাইতে একটা ভিন্নমাতৃক অবস্থানে বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছে, যোগ করেন তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সফর করেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ভাষা দেয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ‘রোহিঙ্গা সংকট’, ‘সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতায় বৃদ্ধিতে উপকূলীয় দেশসমূহের শঙ্কা’, ‘জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায্য রুপান্তর’ এবং ‘পরিবর্তন ও অঙ্গীকার থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: প্রতিরোধ যোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্য বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীর সেবার সমন্বয়’ এই চারটি বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ আল খালিদ আল হামাদ আল সাবাহ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং সংযুক্ত আরব আমীরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহামেদ লতিফ, সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ আল সৌদ এবং সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মারিয়া মালম আলাদা আলাদাভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করেছেন।
জিপি মরগ্যান আয়োজিত ওয়াল স্টিটের প্রতিনিধিদের সাথে এক প্রাতরাশ বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশ ভোজ এবং জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রাত:রাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তিনিও গুতেরেস, বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম ছালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট জায়েদ রা‘য়াদ আল হুসেইন এবং গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যান এর সাথে বৈঠক করেছেন।
জুবাইদা রহমানের কর্মব্যস্ততা
এ প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি উনার সহধর্মী ডা. জুবাইদা রহমান এই চার দিন যথেষ্ট ব্যস্ত সময় কেটেছে উনি নিজে আটটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনটিতে বক্তব্য প্রদান করেছিলেন। জাতিসংঘের উইমেন লিডার্সের যে প্ল্যাটফর্ম সেখানে তিনি গিয়েছিলেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া নারী নেতৃবৃন্দের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বাংলাদেশের প্রত্যাশা তিনি তুলে ধরেছিলেন।
তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ডস ফাস্ট স্পাউসেস ডায়লগ অর্থাৎ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যারা সরকার প্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান রয়েছেন উনাদের সহধর্মিণীদের একটা প্রোগ্রামে তিনি গিয়েছিলেন এবং মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পলিসি এবং উনার ভিশন তুলে ধরেছিলেন। যেটি অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। মিড ওয়াইফারি ইভেন্ট যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এটেন্ড করেছিলেন এবং যার আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। সেখানে গিয়ে তিনি নিজে উনার নিজের অভিজ্ঞতা একজন চিকিৎসক হিসেবে এবং পলিসি মেকিং এর জায়গা থেকে বাংলাদেশের যে উদ্যোগগুলো রয়েছে সেগুলো বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ইউএস প্রেসিডেন্টের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প। উনার একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি যোগদান করেছিলেন। সেখানে মেলানিয়া ট্রাম্পসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান স্ত্রীদের সাথে উনার মতবিনিময় করা হয়। এর পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের যে ব্রেকফাস্ট ইভেন্ট ছিল সেখানে প্রধানমন্ত্রী উনি এটেন্ড করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্ব মঞ্চে ছড়িয়ে গেছে
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার যে বক্তব্যটি দিয়েছেন এটি শুধুমাত্র একটি রুটিন বক্তব্য ছিল না বরং উনার বক্তব্যের প্রত্যেকটা কথা সেটি তিনি বিশ্ব মঞ্চে ছড়িয়ে দিয়েছেন, বিশ্ব পরিসরে ছড়িয়ে দিয়েছেন। প্রত্যেকটা বিশ্বের যারা যারা জাতিসংঘের প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রত্যেকের কাছেই সে বক্তব্যটা গেছে। এটাই আমরা মনে করি একটি বড় অর্জন।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৩০টি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছে যাদের সঙ্গে মূল বক্তব্য ছাড়া এটি না বরং উনার সফরসঙ্গী যারা ছিলেন তারাও কমপক্ষে ৫০টি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন, নানা ইস্যু কথাবার্তা বলেছেন। সুতরাং আপনারা বুঝতে পারতে পেরেছেন যে এই অল্প সময়ের মধ্যে এতগুলো ইভেন্টে যে গিয়েছেন এগুলো সফলভাবে গিয়েছেন।
অনুমতিপত্র ছাড়া সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
জাতিসংঘ সফর সফল, গুরুত্ব পেয়েছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’: প্রেস উইং
আদালতে মরিয়মের বাবার আপসনামা, জামিন পেলেন গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী
দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমি: ইউজিসি সদস্য ড. মামুন