বাঙালির ইতিহাস বদলে দেয়া দিন আজ। আজ ১৭ মার্চ। ১৯২০ সালের এই দিনে রাত ৮টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ বংশের আদরের ‘খোকা’।
ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে সেই খোকা হয়ে উঠেন মুজিব ভাই, বঙ্গবন্ধু এবং জাতির পিতা। তার হাত ধরেই বাঙালি পায় একটি স্বাধীন রাষ্ট্র- বাংলাদেশ।
আজ (১৭ মার্চ) সেই পিতার শুভ জন্মদিন। একই সঙ্গে জাতীয় শিশু দিবস। বিগত সব বছরের মতোই এবারো জাতির পিতার জন্মদিন উদযাপিত হচ্ছে নানা আয়োজনে।
সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতির পিতার ১০২তম জন্মদিন ও শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর আলোচনা সভার।
এসব আয়োজনে শিক্ষকদের কাছ থেকে বারবার তাগাদা এসেছে জাতির পিতাকে জানার। বলেছেন, দেশকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে।
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলে আয়োজন করা হয় শিশুদের ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা। ক্ষুদে আঁকিয়েরা শুধু বঙ্গবন্ধুর ছবিই নয় সাথে এঁকেছে লাল সবুজ পতাকা।
সেখানের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেলো, বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ যে অবিচ্ছেদ্য একটি বিষয়, সেটি সে ভালোই জানে।
কেউ এঁকেছে প্রকৃতির ছবি, কেউ বা আঁকলো উন্নয়নের প্রতীক পদ্মাসেতু। শিক্ষকরাও বলছেন মনের মধ্যের থাকা ছবিটা রং তুলিতে ফুটিয়ে তুলছে শিশু মন।
কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী আবার গান গেয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্য খোলা চিঠি লিখেছে। আলোচনা অনুষ্ঠান হয়েছে আজিমপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজেও।
পিতার জন্য প্রার্থনা হয়েছে। আর শিশু দিবসে শিশুদের জন্য কেক কেটে আনন্দ বাড়িয়ে তোলার ব্যবস্থা করেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। বঙ্গবন্ধুর আলোয় আলোকিত হোক এমনই প্রত্যাশা সবার।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রীয় ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চকে জাতীয় শিশু দিবস ঘোষণা করে মন্ত্রীসভা।
১৯৯৭ সাল থেকেই দিবসটি পালন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এ দিনটিকে সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির চিরন্তন প্রেরণার উৎস: রাষ্ট্রপতি
২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর তৎকালীন বিএনপি সরকার শিশু দিবস পালন এবং সরকারি ছুটি বাতিল করে। ফলে ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দিবসটি পালিত হয়নি।
পরবর্তী সময়ে নবম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে আবারও প্রতিবছর জাতীয় পর্যায় বড় আয়োজনের মাধ্যমেই এ দিবসকে পালন করে আসছে।
একাত্তর/আরএ
