ধনীর কাছ থেকে কর নিয়ে গরীবের উন্নয়নে ব্যয়ের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অথচ, বাজেটে ধনীদের ওপর কর ছাড় দিয়ে গরিব মানুষের আয়ের ওপর কর বসানো হয়েছে। এই প্রস্তাবকে পরস্পরবিরোধী বলেছেন বিশ্লেষকরা।
এবারের বাজেটে পাঁচ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন অর্থমন্ত্রী। আর করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে।
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প নিয়ে বৃহস্পতিবার সাত লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেটে পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, যেখানে পাঁচ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা তার।
একদিকে আইএমএফের পরামর্শে রাজস্ব বাড়ানোর চাপ, অন্যদিক নির্বাচনী বছরে জনগণের ঘাড়ে করের বোঝা না চাপানোর ইচ্ছে নিয়ে দ্বিমুখী সংকট ছিল অর্থমন্ত্রীর সামনে।
যদিও দিন শেষে ধনীদের সম্পদের ওপর সারচার্জের সীমা তিন কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে চার কোটি টাকা। বিপরীতে, করমুক্ত আয়সীমার নিচের থাকা স্বল্প আয়ের টিআইএনধারীদের ওপর দুই হাজার টাকার কর চাপিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, একদিকে করমুক্ত আয়ের সীমা তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে, অন্যদিকে নতুনদের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। যৌক্তিকভাবে এই দুটি সিদ্ধান্ত পরস্পরবিরোধী হয়ে যাচ্ছে। যারা অতিধনী তাদের সম্পদ বেড়েই চললেও সেখানে হাত দেয়া হচ্ছে না।
প্রস্তাবিত বাজেটে পুরুষদের জন্য করমুক্ত ব্যক্তি আয়ের সীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা, আর নারীদের চার লাখ টাকা। চার লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবারও সর্বোচ্চ এক লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা আদায় করবে ভোক্তাদের দেয়া ভ্যাট থেকে। ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা বাংলাদেশে আয়কর ও মুনাফা থেকে আসবে এক লাখ ৫৩ হাজার ২৬০ কোটি টাকা।
এদিকে, রাজস্ব বহির্ভূত কর থেকে সরকারের আয় হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে তিন হাজার কোটি টাকা আসবে যানবাহনের কর থেকে। নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রি থেকে আসবে তিন হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। পাসপোর্ট ফি, বিভিন্ন প্রশাসনিক ফি, সেতুর টোল, ইজারা, লভ্যাংশ ও সুদ থেকে আসবে আরও ৫০ হাজার কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: একাধিক গাড়ির জন্য গুনতে হবে উচ্চ সারচার্জ
অর্থনীতিবিদ ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখতের মতে, অর্থনীতির বড় একটি অংশ অনানুষ্ঠানিক হওয়ায় তাদেরকে করের আওতায় নিয়ে আসা যাচ্ছে না। তবে এমন নয় যে জনসাধারণ কর দিতে চায় না।
তারপরও দুই লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশ ও বিদেশ থেকে ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে অর্থমন্ত্রীর।
দেশে যেভাবে অর্থনীতির আকার ও ধনীদের সংখ্যা বেড়েছে সেভাবে বাড়েনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লোকবল। এমনকি, খুব একটা অগ্রগতি নেই কম্পিউটারাইজড ব্যবস্থাপনারও। তাই হয়তো কর ফাঁকি রোধসহ প্রত্যক্ষ কর আদায়ের চাইতে ভ্যাট বা পরোক্ষ কর আদায়ের দিকেই বেশি মনোযোগ বোর্ডের।
একাত্তর/এসজে
