ঢালাওভাবে জরিমানা ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ করার প্রতিবাদ জানিয়ে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি বলছে, এটি রীতিমতো তাণ্ডব। তবে ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে সমন্বিত অভিযানের দাবি জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। আর রিহ্যাব বলছে, বাণিজ্যিক ভবনে রেস্টুরেন্ট হোক তবে সেটি অবশ্যই নিয়ম মেনে।
বেইলি রোডের আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যুর পর, আবাসিক ভবনে রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে নানান মহলে। এরপর গেলো রোববার থেকে অভিযানে নেমেছে রাজউক, দুই সিটি কর্পোরেশন ও ফায়ারসার্ভিসসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
জরুরি সিঁড়ি না থাকা বা আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার মতো অপরাধে জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি সিলগালা করা হয়েছে শতাধিক রেস্টুরেন্ট। অভিযানের ভয়ে রেস্টুরেন্ট বন্ধ রেখেছেন অনেকে। তারা বলছেন, এভাবে ঢালাও অভিযানের কারণে রমজানে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে ব্যবসা।
দ্য প্যান প্যাসিফিক লাউঞ্জের স্বত্বাধিকারী আবুল এহসান আনোয়ার বলছেন, এটা অমানবিক। তিনি বলেন, অনেকগুলো পরিবার এর সাথে সংশ্লিষ্ট। অনেকে ব্যাংক লোন করেও প্রতিষ্ঠান করেছেন। তাদের এখন কী হবে? সামনে ঈদ, রেস্তোরাঁ সংশ্লিষ্টদের বেতন, বোনাসের কী হবে?
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দায় ঢাকতে ঢালাও অভিযান চালাচ্ছে।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, দিনের পর দিন সেক্টরটাকে অবহেলা করে আগে বাড়তে দিয়েছে সরকার। এখন একটি দুর্ঘটনায় সমস্ত সেক্টরের ওপর যে নির্যাতন চলছে, তা কোনোভাবেই কাম্য না। আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, আমাদের অনেক পুঁজি এখানে বিনিয়োগ করা।

ফয়ারসার্ভিসের নেতৃত্বে সমন্বিত অভিযানের দাবি জানিয়ে ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের এই নেতা বলছেন, এইখাতে অন্তত ৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান।
ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এটিএম সাইদুল আলম টিটো বলছেন, তারা চান- যে কারণে এ অভিযান চলছে- তা দেখে যাদের সমস্যা তাদের কিছু সময় দেওয়া।
রিহ্যাবের সাবেক পরিচালক সৈয়দ শামীম রেজা বলছেন, বাণিজ্যিক ভবনেই রেস্টুরেন্ট হোক। তবে সেটি অবশ্যই নিয়ম মেনে হোক।
যে কোন দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দায় নিরূপণ করেই ব্যবস্থা নেয়ার দাবি রিহ্যাবের এই সাবেক নেতার।
সম্প্রতি রাজধানীতে তদারকি সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে গড়ে ওঠা অবৈধ সব রেস্টুরেন্টে অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত আইজিপি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন। আর রেস্টুরেন্টগুলোর অনুমতি ও তদারকি সংস্থা নিয়ম মাফিক কাজ করছে কিনা সেই বিষয়গুলো আমলে নেয়ার কথা জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ।
বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে আগুন লেগে ৪৬ জনের মৃত্যুর পর গত রোববার থেকে রাজধানীজুড়ে একযোগে অভিযানে নামে পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন ও রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, জরুরি সিঁড়ি, গ্যাসের ব্যবহার ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকার অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
নিয়ম ভাঙায় গুলশানে কাচ্চি ভাই, ধানসিঁড়িকে জরিমানা
কেএফসি, ডমিনোজ পিৎজা, সিক্রেট রেসিপিকে জরিমানা
রাজধানীর অবৈধ সব রেস্টুরেন্টে অভিযান চলবে