ঘুষ বাণিজ্য জিইয়ে রাখতে রেস্টুরেন্ট অনুমোদনে ১৩টি সংস্থাকে যুক্ত রাখা হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আইন ও বিধির মধ্যেই অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সুশাসনের দিকেও নজর দিতে হবে। উচ্ছেদ না করে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে রেস্টুরেন্টে কী ধরনের সমস্যা আছে তা বের করারও পরামর্শও দেন সংশ্লিষ্টরা।
বেইলি রোড। আগুনে নিভে গেছে ৪৬টি প্রাণ। এরপরই নড়েচড়ে বসে বিভিন্ন সংস্থা।
শনিবার নিরাপদ নগর প্রশ্নে এডিটর্স গিল্ডের গোল টেবিল আলোচনায় বিভিন্ন সংস্থার অনিয়ম তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এর পিছনে কাজ করছে ঘুষ বাণিজ্য। আইন ও বিধির মধ্যে অসঙ্গতি থাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল হুদা বলেন, আইন ও বিধির মধ্যে অনেক অসঙ্গতি আছে। সবাইকে নিয়ে বসে এটাকে সংশোধন করতে হবে।
নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, যে বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি তৈরি করা দরকার, আজ এতো বছরেও আমরা অথরিটি তৈরি করিনি। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ালো কী? শুভঙ্করের ফাঁকি।

ডিএসসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান বলেন, আমরা ভাঙচুর কিংবা ব্যাবসা বন্ধ করা, এটা আমাদের উদ্দেশ্য না। আমাদের উদ্দেশ্য হলো আগামীতে যাতে একটি মৃত্যুও না ঘটে।
আর্ক এশিয়ার সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ বলেন, আইনগুলো নিয়ে একাডেমিতে কাজ করতে হবে। কোনো কিচেনে স্পিঙ্কলার কাজ করবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেস্টুরেন্টের অনুমোদন ১৩ সংস্থার চক্রে ঘুরছে। এ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং শাস্তি দেয়া। যে আইন লঙ্ঘন করছে, সে সেটা করবেই। শাস্তি না দিলে আইন লঙ্ঘন করবে।

বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের ফেলো সদস্য স্থপতি কাজী এম আরিফ বলেন, রেস্টুরেন্ট করতে হলে করবো কী? চার রকম দাবিকে মেলাতে হবে। এই মেলানোটা কোন স্থপতি করতে পারবেন, বাঁ কোন রেস্টুরেন্ট মালিক করতে পারবেন, রাজউক বাঁ অনুমোদন দেবে কীভাবে। এই যে জটিলতা এড্রেস করার জন্য আসলে ৮০ জনের বেশি লোককে মারা যেতে হলো।
ঢাকা বিভাগ ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: ছালেহ উদ্দিন বলেন, একটা রুমে কতটুকু ফায়ার লোড থাকতে পারে? আমাদের রেস্টুরেন্টগুলো ফায়ার লোড এবং বিপদে ভর্তি।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, এই যে মালিকরা যে, রাজউক থেকে কমার্শিয়াল স্পেস নিয়ে আমাদের ভাড়া দিলো, তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।
তবে রেস্টুরেন্ট শিল্পের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে কীভাবে একে টিকিয়ে রাখা যায় সে দিকে নজর দিতে বলেন আলোচকরা। টাস্কফোর্স গঠন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করারও পরামর্শ দেন তারা।
এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু বলেন, আমরা মনে করি শহরের বিভিন্ন জায়গায় টাস্কফোর্স অবস্থান গ্রহণ করবেন। সব রেস্টুরেন্টগুলো ও পরবর্তীতে ভবনগুলো নকশা এবং অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে যাবেন, যেখানে গ্যাপ আছে বিশেষজ্ঞরা সেখানে পরামর্শ দেবেন।
আগামী দশ বছরে দেশ কোন দিকে যাবে সে অনুযায়ী পরিকল্পনার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
‘গ্যাস চুরি বন্ধ হলে আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব’