মায়ের পদে চাকরি। কথাটি শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এই নগরে এমন মাও আছেন যিনি ‘মা’ পদে চাকরির মধ্য দিয়ে অনাথ শিশুদের মায়ের ছায়া দিচ্ছেন। তাদের বড় করে তুলছেন।
বলা হচ্ছে, রাজধানীর বিভিন্ন শিশু পল্লীর মায়েদের কথা। এস ও এস শিশু পল্লীতে আট থেকে দশজন শিশুকে আগলে রাখার দায়িত্ব নেন একেকজন মা।
সেই মায়েরা কেমন আছেন? প্রতিদিনের সেখানকার দৃশ্যপট একই রকম। সকাল বেলায় পরিপাটি হয়ে সারি বেঁধে স্কুল বাসে উঠছে শিশুরা। ওদের স্কুলে পাঠিয়ে মায়েরা ব্যস্ত হচ্ছেন বাজারে বা ঘরের কাজে।
দুপুর হতেই ফিরে আসছে শিশুরা। হৈ চৈ করে ঢুকছে নিজেদের ঘর; মমতা সমতা একতা মায়াবী কিংবা শ্যামলীতে। ব্যস্ত মাকে ঘিরে ধরছে তারা। এমন একেকটি ঘরে ৮ থেকে ১০জন শিশুর বসবাস।
প্রতি ঘরে আছেন একজন করে মা। কিন্তু এই মা তাদের কাউকেই গর্ভে ধারণ করেননি। তবুও তিনি মা। সেই মায়েদেরও আছে নানা গল্প, যেখানে হাসি-কান্নার সঙ্গে লুকিয়ে থাকেন অনেক বেদনাও।
যেমন দুই দশক আগে ফাতেমা বেগম তার নিজের সন্তানকে ভাইয়ের কাছে রেখে; এসওএস শিশু পল্লীর ত্রিশ সন্তানের মা হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত।
সন্তান ধারণে অক্ষম সুমাইয়া খন্দকার; এমনটা জানার পর পল্লীর শিশুদের নিয়েই জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন এই মা। কখনও তার মনেই হয়নি এই শিশুরা তার আপন সন্তান নন।
মা থেকে হয়েছেন নানী দাদি। হয়েছেন তাদের খেলার সাথী। এই মায়েদের ঘিরেই জীবনের স্বপ্ন আঁকে ঢাকার শ্যামলীর শিশু পল্লীর শিশুরা।
পরিবার সমাজ তাদের দূরে ঠেলে দিলেও শিশুপল্লির এই মায়েরাই এসব অনাথ শিশুদের বড় করে তোলেন। পল্লীর এই খোলা প্রান্তরে মাকে ঘিরেই তাদের জীবনের জয় গান।
