রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখন ছিনতাইকারীদের প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এই বাহনে কখনো যাত্রীর বেশে আবার কখনো চালক বেশে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। এই দুর্বৃত্তদের রুখতে দিশেহারা পুলিশও। এই পরিবহনকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের বেশকিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এসেছে একাত্তরের হাতে।
৩১ আগস্ট ভোর ৬টা, মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের শেষ মাথায় অটোরিকশায় চড়ে আসে এক যুবক। অটো থামার সাথে সাথে পেছন থেকে আসে দু’জন। কোমড় থেকে বের করে চকচকে চাপাতি। যা গলায় ঠেকিয়ে লুটে নেয় মোবাইল মানিব্যাগসহ সব কিছু।
সেই অটোর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো আরো দুটি অটোরিকশা, তবে প্রতিবাদ করেনি কেউ। আর, সবচেয়ে মজার বিষয়, যে অটোতে এসে যুবকটি ছিনতাইয়ের শিকার হলেন, সেই অটোতে এবার ছিনতাইকারী বেরিয়ে পড়লো নতুন শিকারের সন্ধানে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই দিন ছিনতাইয়ের শিকার যুবকের নাম নাগর রায়। থাকেন বসিলা গার্ডেন সিটিতে। গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরার পথে পড়েন ছিনতাইকারীদের কবলে।
অটোরিকশায় করে এমন অভিনব ছিনতাই রাজধানীতে ঘটছে অহরহ। কয়েকমাস আগের এই সিসি ক্যামেরার ফুটেজটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, নির্জন সড়কে খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে একটি অটো। পেছনে তিন ছিনতাইকারী দেশীয় অস্ত্র হাতে ঘিরে ধরেছে এক যুবককে।
কিছুক্ষণের মধ্যে সেই অটো আবারো ঘুরে আসে ঘটনাস্থলে। এ সময় ছিনতাইকারীরা ওই যুবকের সব কিছু লুটে নিয়ে সেই অটোতে উঠে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ছিনতাইকারীদের এমন দৌরাত্ব্য অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী। রাতে তো বটেই দিনে দুপুরেও ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করছে ছিনতাইকারীরা। কিছুদিন আগেও ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেল বেশি ব্যবহার করলেও, এখন করছে অটোরিকশা। পুলিশ বলছে, অভিনব এই ছিনতাইকারীদের ধরতে চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে।
