হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগুন শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভয়াবহ আগুনে প্রায় সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বিমানবন্দরে ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। তবে আগুনে প্রায় হাজার কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। প্রাথমিকভাবে কারণ না জানা গেলেও গঠিত হয়েছে সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ৯টার কিছু পর থেকে বিমানবন্দরের ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দুবাই থেকে আসা ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইট রাত ৯টা ৬ মিনিটে অবতরণ করার মাধ্যমে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়।

এর আগে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ জায়েদ কামাল জানান, প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ইউনিট নিয়ে কাজ শুরু করলেও পরে এসে যুক্ত হয় আরও ৩২টি ইউনিট। মোট ৩৭টি ইউনিট মিলে রাত ৯টা ১৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি ফায়ার ইউনিট, নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এছাড়া উদ্ধার সহায়তায় যোগ দেয় বিজিবির দুই প্লাটুন সদস্য।

তবে কি কারণে আগুন এবং কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, প্রাথমিকভাবে তা জানতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তিনি বলেন, তদন্তের পর এ বিষয়ে জানা যাবে। তবে হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির দাবি ব্যবসায়ীদের।
সবশেষ রাতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এতে কোনো নিহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে নিশ্চিত করা যাচ্ছে যে আগুন সম্পূর্ণ নিভে গেছে। রাত ৯টা থেকে সব ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে।
এদিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের উৎস চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
আগুন লাগানোর বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেলে কঠিন পদক্ষেপ, অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি