ময়মনসিংহে অস্ত্র মামলার ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ১১ দিন ধরে কারাভোগ করছেন এক নিরপরাধ রিক্সা চালক।
তবে বরগুনা পুলিশ বলছে, বরগুনা সদর থানার যেই মামলায় ওই রিকশাচালককে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ময়মনসিংহ পুলিশ, সেই মামলার কোনো অস্তিত্বই নেই বরগুনায়। আর মামলায় বাদীর নিয়োগকৃত আইনজীবী বলছেন, বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে একটি চক্র তৈরি করেছে ভুয়া ওয়ারেন্ট।
গত ২০ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের জামতলী গ্রামের রিকশাচালক বুলবুল ইসলাম বুলুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় ত্রিশাল থানা পুলিশ।
হতদরিদ্র এ রিকশাচালকের স্বজনরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ২০১৮ সালে বরগুনা সদর থানায় অস্ত্র আইনের ১৭ নাম্বার মামলায় বরগুনা আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে।
তবে তারা বরগুনার আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, এমন কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ময়মনসিংহে পাঠানো হয়নি।
এরপর বরগুনা আদালত থেকে ২৪ জানুয়ারি তল্লাশির আবেদন ও তল্লাশির লিখিত মন্তব্য নিয়ে বড় ভাই বুলবুলকে মুক্ত করতে যান তার ছোটো ভাই উজ্জ্বল মিয়া। কিন্তু ময়মনসিংহ আদালত জানান, মিথ্যা এ মামলা থেকে মুক্তি পেতে রায় পেতে হবে বরগুনার আদালত থেকে।
আরও পড়ুন: সূর্যমুখী ফুল থেকে নানাবিধ আয় বাড়াচ্ছে আগ্রহ
রোববার (৩০ জানুয়ারি) সকালে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বুলবুলের মুক্তির জন্য আবেদন করলে দুপুরে মামলা থেকে মুক্তির আদেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাসানুল ইসলাম। তবে বরগুনা থেকে রায়ের কপি ময়মনসিংহে পৌছাতে সময় লাগবে চার থেকে পাঁচ দিন। তারপরই মিলবে মুক্তি।
বাদীর আইনজীবী এম মজিবুল হক কিসলু জানান, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো বুলবুলকে।
এদিকে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আহমেদ বলেন, এরকম কোনো মামলার অস্তিত্ব নেই বরগুনা সদর থানায়।
নিরপরাধ হতদরিদ্র রিকশাচালককে বিনা অপরাধে ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করে যারা কারাবন্দী করেছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন স্বজনরা।
একাত্তর/এসজে
