বাংলাদেশে লিলিয়াম ফুলের ব্যাপক চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবার কৃষি বিজ্ঞানীরা সফলভাবে উদ্ভাবন করেছেন এই ফুলের দুইটি জাত।
তারা মনে করেন, এ ফুলের চাষ দেশীয় ফুলের বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এদিকে এ ফুল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন দেশীয় ফুল চাষীরা।
বলা হয় ফুলের রানি লিলিয়াম। অপরূপ, নজরকাড়া রং আর ঘ্রাণে ভরা এই ফুলটির চাহিদা রয়েছে গোটা দুনিয়া জুড়েই। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়।
দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতি বছর নেদারল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা, আমেরিকা ও চীন থেকে প্রচুর লিলিয়াম ফুল আমদানি করা হয়। আর প্রতিটি ফুল বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।

বাজার সম্ভাবনায় বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকে লিলিয়ামের চাষ হচ্ছে। এর সৌন্দর্য অবলোকনে প্রতিদিনই গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে ছুটে যান প্রকৃতি প্রেমীরা।
এরইমধ্যে দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন লিলিয়াম ফুলের দুইটি জাত। তাদের উদ্ভাবিত ফুলেই মাঠ জুড়ে ঝলমল করছে লাল,সাদা, গোলাপি, হলুদ, বেগুনিসহ নানা রঙা লিলিয়াম।
কৃষি বিজ্ঞানীরা জানান, এই ফুল চাষের জন্য কন্দ সংগ্রহ, রোগবালাই, পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধসহ, প্রযুক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করে সফল হয়েছেন তারা।
তাদের গবেষণা মাঠে এখন ঝলমল করছে ১৫ রঙের লিলিয়াম ফুল। বিজ্ঞানীদের গবেষণার পর এর চাষ প্রযুক্তি হস্তান্তর করাহবে ফুল চাষীদের ভেতর।
ফুল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধানবৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফারজানা নাসরীন খান বলেন, আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- এই ফুলের বংশ বিস্তারের উপযোগী ভালো মানের কন্দ(বাল্ক্ব) কীভাবে উৎপাদন করা যায় এবং ভালো মানের ফুল ফোটে। যাতে বিদেশ থেকে এ ফুল আমদানি করতে না হয়।

কৃষি বিজ্ঞানীরা আরো জানান, লিলিয়াম মূলত শীতপ্রধান অঞ্চলের ফুল। কিন্তু বাংলাদেশেও সীমিত পরিসরে এশিয়াটিক ও ওরিয়েন্টাল লিলিয়াম চাষ হচ্ছে সাফল্যজনকভাবে।
উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. অপূর্ব কান্তি চৌধুরী বলেন, গবেষণা মাঠে লাগানো কন্দ পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিণত হওয়ার পর, জানুয়ারির শেষের দিকেফুল ফুটতে শুরু করে। এ প্রকল্প সফল হলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করা যাবে।
আর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জানালেন, বিশ্ব ফুল বাণিজ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে লিলিয়াম। তাই এ ফুলের চাষ ফুলের বানিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
সাধারণত কন্দ লাগানোর ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে লিলিয়াম ফুল ফুটতে শুরু করে। সঠিক সময়ে সংগ্রহ করা গেলে এই ফুল ১৪-১৫ দিন পর্যন্ত সতেজ থাকে।
একাত্তর/এসএ
