গাইবান্ধার মেধাবী শিক্ষার্থী প্রতীক কুমার সরকার এবার ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এমন খবরে একদিকে প্রতীকের বাবার চোখে যেমন আনন্দ অশ্রু, অন্যদিকে কপালে চিন্তার ভাঁজ! কী করে মেটাবেন এই ভর্তির খরচ!
‘মেডিকেলোত ভর্তি হলে ছোলটা ডাক্তার হবি, কিন্তু ভর্তি পরিখাত পাস করি হামারঘরক চিনতাত ফেলাচে। একন হামরা ভর্তির ট্যাকা পামো কোনটে?’
কথাগুলো বলছিলেন, প্রতীকের বাবা গাইবান্ধা শহরের কালীবাড়িপাড়ার হোটেল শ্রমিক প্রবীর সরকার।
দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোস্যালে প্রতীকের বাবার এমন অসহায় অবস্থা দেখে এগিয়ে এসেছে ১৯৯৮ সালে এসএসসি ও ২০০০ সালে এইচএসসি শিক্ষার্থীদের ‘সনাতন ৯৮-০০’ নামের ভার্চুয়াল একটি সামাজিক সংগঠন।
সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে গাইবান্ধায় প্রতীকের বাড়িতে গিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার লেখাপড়া সহায়তায় ২০ হাজার টাকা বাবা প্রবীর সরকারের হাতে তুলেন দেন সংগঠনটির সদস্যরা।

এসময় প্রতীকের বাবা প্রবীর সরকার সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সমাজে এমন সুহৃদ থাকলে কেউই অসহায় বোধ করবে না।
প্রতীক কুমারের মা বীথি সরকার বলেন, যাদের সঙ্গে আমাদের কোনো আত্মীয়তা বা সম্পর্ক নেই, এমনকি যাদের আমরা কখনও দেখিনি তারাই আমাদের এই কঠিন সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন।
সংগঠনটির এডমিন রাজীব মজুমদার বলেন, একটি মেধা, একটি সম্ভাবনা অকালে হারিয়ে যাবে এটি মেনে নেওয়া যায় না। আমরা সংগঠনটির পক্ষ থেকে খুব সামান্য কিছু সহযোগিতা পরিবারটিকে করেছি।
আরও পড়ুন: ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় নষ্ট হলো কৃষকের সোনার ফসল
তিনি আরও বলেন, পরিবারটিকে আশ্বস্ত করেছি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে এবং আমরা তাদের পাশে থাকবো।
এ সময় সংগঠনের অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অর্ণব দত্ত রায়, পলাশ চন্দ্র পাল, শ্রাবণী সাহাসহ স্থানীয়রা।
একাত্তর/এসি
