শেরপুরের তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী লোকালয়ে নিয়মিত নেমে আসছে বন্য হাতির দল। খাবারের সন্ধানে হাতির পাল হানা দিচ্ছে বোরো ধানের ক্ষেতে। ক্ষতি করছে ফসল, বাড়ি-ঘর, গাছপালা। আতঙ্কে দিন পার করছে এলাকার মানুষ।
সেখানকার বন বিভাগ বলছে, হাতির খাদ্য সংকট নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে কাজ করা হচ্ছে।
খাদ্যের সন্ধানে বন্য হাতির দল নেমে আসছে শেরপুরের তিন উপজেলা ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী। ক্ষতি করছে ফসল, বাড়ি-ঘর ও গাছপালা।
শেরপুর এই তিন উপজেলাই ভারতের মেঘালয় রাজ্য ঘেঁষা এবং তিন উপজেলার বিশাল এলাকা জুড়ে অবস্থিত গারো পাহাড়।
এক সময় এই বনাঞ্চলে অবাধে ঘুরে বেড়াতো বন্যহাতির দল। কিন্তু সীমান্তের ওইসব পাহাড়ি এলাকায় মানুষ দিনদিন বসতি গড়ে তোলায় ক্রমেই বন্ধ হয়ে যায় হাতির চলাচল।
এতে প্রতি বছরই সীমান্তের ওপার থেকে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসছে হাতির দল। আর তখনই শুরু হচ্ছে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব।
শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতবাড়ীর পাহাড়ি এলাকায় সবে মাত্র বোরো ধান পেকেছে। সেই ধান খেতেই আবারো নেমে আসতে শুরু করেছে হাতির দল।
স্থানীয়রা জানান, ভারতের সীমানা ঘেঁষে শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় গারো পাহাড়ে প্রায় ৪০টি গ্রাম রয়েছে। ওসব গ্রামের চারপাশ ঘিরে গারো পাহাড়।
কয়েকদিন যাবত ভারত থেকে নেমে আসা শতাধিক বন্য হাতি কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে ওই সব এলাকায় বিচরণ করছে।
বন্য হাতির দল সারাদিন পাহাড়ি ঝোপ-জঙ্গলে থাকলেও সন্ধ্যা হলেই নেমে আসে লোকালয়ে। হামলা চালাচ্ছে বাড়ি-ঘরে। খেয়ে সাবাড় করছে বোরো মৌসুমের আবাদ।
পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করছে বিস্তীর্ণ আবাদি জমির ফসল। আর ধ্বংস করছে সবজি খেত। বাধা দিতে গেলে শুরু হয় হাতি ও মানুষের যুদ্ধ।
ঢাকঢোল পিটিয়ে, পটকা ফুটিয়ে আর মশাল জ্বালিয়ে ঠেকানো যাচ্ছে না হাতির তাণ্ডব। এখন ওই সব গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ হাতির আতঙ্কে দিন পার করছেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে দ্বন্দ্বে কিশোরকে রাস্তায় বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা
এদিকে, হাতির খাদ্য সংকট মোকাবেলায় বন বিভাগ পাহাড়ে লাগাচ্ছে হাতির খাদ্য উপযোগী গাছ। পাশাপাশি হাতি ও মানুষের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিরসনে গড়ে তোলা হচ্ছে অভয়ারণ্য।
বন বিভাগ বলছে, ১৯৯৫ থেকে বন্য হাতির আক্রমণে জেলায় প্রায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। এ সময়ে প্রায় ৩০-৩৫টি বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে।
একাত্তর/এসি
