দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের ১৬ তম দিনে বুধবার সকাল থেকে মৌলভীবাজারে কাজে যোগ না দিয়ে বাগানে বাগানে কর্মবিরতি পালন করছেন চা শ্রমিকরা।
এদিকে গতকাল মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বাগান পরিদর্শন করে কাজে যোগ দেওয়ায় অনুরোধ করা হয়েছিলো। পরে ১২টি বাগানের শ্রমিকদের কিছু অংশ কাজে ফিরেন। কিন্তু আজ বুধবার আবারও এসব বাগানসহ জেলার সবকটি চা বাগানে একযোগে কর্মবিরতিতে নেমেছেন শ্রমিকরা। ফলে কোনো বাগানে কাজ হয়নি।
এর আগে, ২১ আগস্ট রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে ১২০ টাকা মজুরি রেখেই কাজে যোগ দেয়ায় সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। সেই প্রস্তাব মেনে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। কিন্তু পরে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আবার কর্মবিরতিতে যান শ্রমিকরা।
এদিকে মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান ফিনলে টি কোম্পানির ভাড়াউড়া চা বাগানে সাধারণ শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন তাদের মজুরির বিষয়ে। তিনি তাদের আশ্বাস দেন মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দূর্গাপূজার পূর্বে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ঘোষনা দেবেন। তারা যেন কাজে ফিরে যান।
এদিকে সরাসরি জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে কাজে ফিরেছিলেন শ্রীমঙ্গলের ফিনলে টি কোম্পানির ভাড়াউড়া চা বাগান, জেরিন চা বাগানসহ বেশ কয়েকটি চা বাগানের শ্রমিকরা। কিন্তু আজকে আবারও কর্মবিরতিতে নেমেছেন সবকটি চা বাগানের শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে প্রতিদিন এ শিল্পে লোকশান হচ্ছে প্রায় ২০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশীয় চা সংসদের সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান জিএম শিবলী।

আরও পড়ুন: নতুন সূচিতে অফিস শুরু, রাস্তায় বাস কমের অভিযোগ
আন্দোলনরত চা বাগানের চা শ্রমিকরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে তাদের সাথে ধোকা দেওয়া হচ্ছে। তারা এ সিদ্ধান্ত মানেন না। নেতাদের কথা আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা চাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নিজে আমাদের মজুরি ঠিক করে ঘোষনা দিলে, আমরা আজই কাজে যোগ দেবো। তাই প্রধানমন্ত্রী না বলা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে ফিরব না।
সম্প্রতি মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা-শ্রমিকরা ধর্মঘট শুরু করলে চা বাগান মালিক বা সরকারের পক্ষ থেকে মাত্র ২৫ টাকা মজুরি বাড়ানোর যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, একটি অংশ তা মানলেও শ্রমিকদের আরেকটি অংশ ক্ষোভে আর অভিমানে তা মানতে রাজি হননি। তারা বলেছেন ১৪৫ টাকা মজুরির প্রস্তাবে রাজি হওয়ার বদলে তারা পুরোনো মজুরিতেই কাজ করবেন।
এদিকে চা শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির বিষয়ে প্রথম দফা ঢাকায় বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তর কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠক, পরে শ্রীমঙ্গল শ্রম দপ্তরে এবং সর্বশেষ ২১ আগস্ট মধ্যরাতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকে ৮ জন শ্রমিক নেতা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের বিষয়ে একমত হন। তারা প্রশাসনের সাথে যৌথ স্বাক্ষর করে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন। কিন্তু নেতারা সাধারণ শ্রমিকের তোপের মুখে তা আবারও প্রত্যাখান করেন।
উল্লেখ্য গত ৯ আগষ্ট থেকে ৩০০ টাকা মজুরীর দাবীতে ২ ঘন্টা করে ধর্মঘটে নামেন চা শ্রমিকরা।পরবতীতে ১৩ আগষ্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণদিবস কর্মবিরতিসহ মানববন্ধন, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করে ধর্মঘট পালন করে আসছেন।
একাত্তর/আরবিএস
