পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা সংলগ্ন খাজুরা গ্রামে চাষের জমি খেকে উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে সাত ফুট লম্বা বিরল প্রজাতির গোলবাহার অজগর।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কৃষক আব্দুল খালেকের জমি থেকে কলাপাড়া এনিমেল লাভারস সংগঠনের সদস্যরা অজগরটি উদ্ধার করে।
বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ প্রজাতির অজগর দেখা যায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Python reticulatus. বিশ্বে এখন পর্যন্ত ৩৮ ফুট লম্বা গোলবাহারের দেখা মিলেছে। তবে সাগর উপকূলে এবারই প্রথম এ প্রজাতির অজগর উদ্ধার হলো।
এ্যানিমাল লাভারস সংগঠনের সদস্যরা জানান, এ প্রজাতির অজগর প্রথমে কামড়ায়। তারপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এটি একজন ব্যক্তির শরীরের চারপাশে তার শক্তিশালী কয়েলগুলিকে আবৃত করে মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বন্ধ করে দেয়। শ্বাসনালী বন্ধ করে দেয় এবং বুককে প্রসারিত হতে বাধা দেবে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত মারা যায়।
তারা আরও জানান, উদ্ধার করা অজগরটি হলুদ, সাদা, সবুজ, ধূসর ও কালো রংয়ের। শরীরে রিংয়ের ভিতর ডায়মন্ডের মতো বেশ কিছু ছোপ রয়েছে। আর মাঝের রং ধূসর। আর এই বড় ছোপগুলোর আশপাশে কালচে ছোট অনেক দাগ ও ফোঁটা রয়েছে।
তারা জানান, এই অজগরেরা শিকারের সময় এক জায়গায় চুপচাপ বসে থাকে। শিকারকে আক্রমণ করার পর পেঁচিয়ে নেয়, যেন শ্বাস নিতে না পারে। কিছুক্ষণের মধ্যে শিকার নিস্তেজ হয়ে পড়লে ধীরে ধীরে গিলে ফেলে। এরা ইঁদুর, বানর, হরিণ, বুনো শূকর খায়। এ ছাড়া বিভিন্ন পাখি ও সরীসৃপও এদের খাবারের তালিকায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: দুইটি ট্রলারসহ ৩১ ভারতীয় জেলে আটক
এ্যানিমাল লাভারস সংগঠনের সদস্য রাকায়েত আহসান জানান, দুপুরে তাদের মুঠোফোনে জানাতে পারেন যে কৃষকরা ক্ষেতে চাষ করার সময় সাপটি দেখতে ভয় পেয়ে যায়। এসময় তিনিসহ সংগঠনের সদস্য আরিফুল ইসলাম শাওন, কে এম বাচ্চু ও বায়েজিদ মুন্সী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সাড়ে সাত ফুট লম্বা অজগরটি উদ্ধার করে এবং বনবিভাগকে অবহিত করেন।
শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে কুয়াকাটার টেংরাগিরি বনাঞ্চলে অজগরটিকে অবমুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
একাত্তর/জো
