দূর-দূরান্ত থেকে নানা ভোগান্তি মাথায় নিয়ে মানুষ যাচ্ছেন প্রিয়জনের সাথে ঈদ উদযাপন করতে। কিন্তু এবার সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিক ও তাদের পরিবার ঈদের আনন্দ উদযাপন থেকে বঞ্চিত। বরং তাদের ঈদ কাটবে উৎকণ্ঠা আর প্রিয়জন বঞ্চিত বেদনায়।
আশেপাশের সবাই ঈদের আনন্দ শুরু করে দিলেও সোমালিয়ায় জলদস্যুদের হাতে জিম্মি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর নাবিকদের স্বজনদের যেন ঈদ নেই। প্রিয়জন ফিরে আসার অপেক্ষায় তারা।
জিম্মি নাবিকদের সুস্থ শরীরে ফিরে পেতে সরকার ও জাহাজের মালিকপক্ষের দিকে তাকিয়ে আছেন তাদের স্বজনরা।
অপহৃত জাহাজের ক্যাপ্টেন আতিকের মা জানালেন, কিছুক্ষণ পরপর কান্নাকাটি করতে করতে জ্ঞান হারাচ্ছেন তার ছেলের বৌ। এমন অসহনীয় বেদনা প্রকাশের ভাষা নেই।
ফায়ারম্যান মোশাররফের মা কাঁদতে কাঁদতে জাহাজের কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানাচ্ছেন তার ছেলেকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করার।
ওয়েলম্যান আইনুলের ভাই জানালেন, তাদের মা ছেলের উৎকণ্ঠায় অসুস্থ। তাই সবার জন্য ঈদ আনন্দ বয়ে নিয়ে এলেও তাদের কোনো আনন্দ নেই।
অবশ্য নাবিক ও জাহাজ মুক্তির জন্য সোমালিয়ান জলদস্যুদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে জাহাজটির মালিকপক্ষ। শিগগিরই ইতিবাচক ফলাফল আশা করছেন তারা।
কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নির্ভর করছে জলদস্যুদের মর্জির ওপরে। তাই তারা চাইলেই যে নাবিকদের মুক্ত করে আনতে পারছেন, বিষয়টি এমন নয়। তবে তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিজ্ঞ নাবিক মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী জানালেন, জলদস্যুদের হাত থেকে নাবিক ও জাহাজ উদ্ধার একটি জটিল প্রক্রিয়া। আলোচনা ও লেনদেনের অনেকগুলো ধাপ পার করতে হবে। তাই ঈদ উদযাপনের চেয়ে জিম্মিদের সুস্থভাবে ফিরে আসাটাই গুরুত্বপূর্ণ।
মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে দুবাই যাওয়ার পথে ২৩ নাবিকসহ কেএসআরএম গ্রুপের জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ অপহরণ করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। ২০১২ সালেও একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি জাহাজ অপহরণের ১০০ দিন পর মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে আসেন নাবিকরা।
জাহাজ ও নাবিকদের মুক্ত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী