বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে সমালোচনা বা কাদা ছোড়াছুড়ি করে দেশের মানুষের কোনো লাভ হবে না। বরং পরিকল্পিত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সম্ভব।
রোববার বিকেলে, ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে তারেক রহমান ফেনীর মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এটা কিন্তু আমার নানাবাড়ি। তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে। তিনি নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলের মানুষের সাথে তাঁর পরিবারের আবেগের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।
বক্তব্যে তারেক রহমান বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষের জন্য কী কী বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারের গৃহিণীদের আর্থিক সহায়তায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের কাছে সরাসরি সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে।
বিএনপি নেতা আরও বলেন, প্রতিটি গ্রামে ‘হেলথকেয়ার’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে মা-বোনদের চিকিৎসা সেবা দেবেন। এছাড়া, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যার কথা স্মরণ করে তিনি সারা দেশে পরিকল্পিত খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন।
তারেক রহমান বলেন, ফেনীতে নতুন ইপিজেড স্থাপন এবং বিদেশে গমনেচ্ছু যুবকদের জন্য ভাষা শিক্ষা ও বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসনের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পাঁচ আগস্টের পর দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। কিন্তু এখন আবার একটি দল জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
তিনি নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে কেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজর আদায় করবেন। কেউ যেন আপনাদের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সেজন্য অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকতে হবে।
তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা হবে। তিনি বলেন, শহীদ জিয়া এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অসম্পূর্ণ কাজগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি ‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’ গড়তে চাই। ১২ তারিখ ধানের শীষকে বিজয়ী করলেই এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
জনসভা শুরুর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীতে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আহতদের সঙ্গে দেখা করেন তারেক রহমান। তিনি তাঁদের ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জানান যে, এসব ত্যাগের মর্যাদা দিতেই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জনসভা শেষে তারেক রহমান নোয়াখালীর তিন জেলার (ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী) বিভিন্ন সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি স্লোগান দেন- ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
