দেশজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট ও কৃচ্ছ্রসাধনের ঘোষণার মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে তেল মজুত ও পাচারের অভিযোগে বড়ো ধরনের অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন ও কোস্টগার্ড। চট্টগ্রাম, ভোলা ও মেহেরপুরে আলাদা অভিযানে প্রায় ৪৭ হাজার লিটার ডিজেল, অকটেন ও পেট্রল জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি আটক করা হয়েছে কয়েকজনকে। অন্যদিকে নেত্রকোনায় একটি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে তেল পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
চট্টগ্রাম থেকে একাত্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সদরঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে অভিযান চালিয়ে একটি অয়েল ট্যাঙ্কার (জাহাজ) থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ৩৭ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, ‘কোরবান আলী শাহ’ নামের ট্যাঙ্কারটি পতেঙ্গার মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপো থেকে তেল নিয়ে সদরঘাট এলাকায় অবস্থান করছিলো। গোপন খবরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন কচি জাহাজটিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ডিজেলের প্রমাণ পান। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
ভোলা থেকে একাত্তরের নিজস্ব প্রতিনিধি জানান, ভোলার সদর উপজেলায় কোস্টগার্ড ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের আলাদা অভিযানে তিন হাজার ২০০ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় দুইজনকে আটক এবং একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালাসহ মোট এক লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন জানায়, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে ভেদুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি স্টিলবডি বোট থেকে দুই হাজার লিটার তেলসহ দুইজনকে আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজল কুমার দাসের তত্ত্বাবধানে ওই তেল বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। একই রাতে শহরের ইলিশা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ‘জান্নাত ট্রেডার্স’ থেকে আরও এক হাজার ২০০ লিটার তেল জব্দ করে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মেহেরপুর থেকে একাত্তরের নিজস্ব প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুরের গাংনীতে নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে অবৈধভাবে তেল নামানোর সময় সাড়ে চার হাজার লিটার ডিজেলসহ একটি লরি জব্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগ রাত আড়াইটার দিকে সাহেবনগর বাজার এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গাংনী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল করিম জানান, খুলনা ডিপো থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার কথা থাকলেও লরিটি সাহেবনগর বাজারের এক ব্যবসায়ীর দোকানে তেল নামাচ্ছিলো। বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় লরি ও তেল জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
নেত্রকোনা থেকে একাত্তরের নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় ‘মেসার্স শুভ শান্তি ফিলিং স্টেশন’-এর বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে ড্রামে করে অকটেন ও পেট্রল পাচারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনের বেলা পাম্পে তেল নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও রাতে গোপনে তেল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ থেকে একাত্তরের নিজস্ব প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অবৈধভাবে তেল মজুতের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় দুই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে এক হাজার ৪৫৫ লিটার জ্বালানি জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়াও মজুত করার অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের মবুপুর বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসরাত জাহান।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে তেল মজুতের অভিযান পরিচালনা করে মবুপুর বাজারের হাসমত আলী দোকান থেকে ডিজেল ৭২০ লিটার ও পেট্রোল ৩৪৫ লিটার এবং আব্দুস সালামের দোকান থেকে ডিজেল ৩০০ লিটর পেট্রোল ৮৫ লিটার ও অকটেন পাঁচ লিটার জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা পেট্রোল মোটর সাইকেল চালকদের মাঝে এবং ডিজেল স্থানীয় কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে ৬২০ লিটার বিক্রি করে দেওয়া হয়। আর ৪০০ লিটার ডিজেল ডিলার পয়েন্টে সরকারি নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়।
