জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ চিরকালই আবহমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে যুগে যুগে নানা ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ পরম সৌহার্দ্যে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। এই সম্প্রীতির ধারা অক্ষুণ্ণ রেখেই দেশকে সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে নিতে হবে।
রোববার দুর্গাপূজা উপলক্ষে নরসিংদী সদর ও পলাশ উপজেলার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সফরকালে তিনি নরসিংদী সদরের পাঁচদোনা শ্রী শ্রী হরি মন্দির এবং পলাশ বাজার সর্বজনীন দুর্গামন্দির ঘুরে দেখেন। মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মন্দিরগুলোতে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন এবং স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীদের মাঝে উৎসবের শাড়ি বিতরণ করেন।
মণ্ডপে সমবেত সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের উদ্দেশে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ও প্রস্থানের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আমাদের গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে। অন্যায়, জুলুম ও সামাজিক অত্যাচারকে পরাজিত করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার যে শাশ্বত শিক্ষা দুর্গাপূজা বয়ে আনে, তা কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না রেখে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও চর্চা করা প্রয়োজন। দেশের প্রতিটি মানুষের ওপর থেকে অন্যায়-অবিচার দূর করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা সবার ভেতরে ধারণ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
নরসিংদীর দীর্ঘদিনের সামাজিক মেলবন্ধনের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বা দেশে সময়ে সময়ে নানাবিধ সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও নরসিংদীর শান্তিপ্রিয় মানুষ সবসময় নিজেদের ভেতরের সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। আগামী দিনগুলোতেও এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রূপকল্পের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার এমন একটি বিভেদহীন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর, যেখানে জাতি, ধর্ম কিংবা বর্ণের ভিত্তিতে কারোর ওপর কোনো পার্থক্য তৈরি করা হবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিক কেবল ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রকে একটি আদর্শ ও মানবিক দেশে পরিণত করতে কাজ করবেন।
পলাশ বাজার সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে স্থানীয়দের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, পলাশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর নাড়ির ও দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। প্রতি বছরই তিনি এই অঞ্চলের পূজামণ্ডপগুলোতে ছুটে আসেন। আগামী দিনেও স্থানীয় মন্দিরসমূহ ও সামগ্রিক এলাকার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন এবং মা দুর্গার মহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পলাশকে একটি মডেল ও সমৃদ্ধ উপজেলায় রূপ দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
