অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী নাহিদ রসুলকে প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে, যেখানে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষেরা।
সোমবার দুপুর ১২টার থেকে শহরের ডিবি রোডের নাট্য সংস্থার সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠনের দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে দুপুর একটার দিকে আন্দোলনকারীরা গাইবান্ধা শহরের ব্যস্ততম ডিবি রোডের গানাসাস মার্কেটের সামনে কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করে রাখে।
তারা ব্যানার হাতে সড়কের উপর বসে, দাঁড়িয়ে কর্মসূচি পালন করে। এ সময় ব্যস্ততম সড়কের উভয় পাশেই যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
মানববন্ধনে সাংবাদিকরা ঘোষণা দেন যে, তারা জেলা প্রশাসকের কোনো সংবাদ প্রচার করবেন না। বদলি না হওয়া পর্যন্ত চলমান কর্মসূচিও অব্যাহত রাখা এবং আগামী সাতদিনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে হরতালসহ আরো বড় কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত বছরের ২৭ জুলাই গাইবান্ধায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই কাজী নাহিদ রসুল স্থানীয় সুশীল সমাজ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন।
প্রয়োজনীয় নানা প্রশাসনিক কাজে তার সাক্ষাতে গেলে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
আন্দোলনকারী বলেন, গাইবান্ধা জেলায় বর্তমানে শতাধিক অবৈধ ইটভাটা চললেও অজ্ঞাত কারণে দুই-চারটি ছাড়া বেশিরভাগ ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এছাড়া গত ৯ ডিসেম্বর তাঁর কার্যালয়ের ৮৪ জন কর্মচারী নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা ভোররাত পর্যন্ত চালানোর কারণে নারীরা বিড়ম্বনায় পড়েন এবং অনেকে বারান্দায় নিরাপত্তাহীনতায় রাত্রিযাপন করে সকালে বাড়ি ফেরেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে মানববন্ধনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুলের বক্তব্য দিতে চাননি। তিনি বলেছেন, তারা মানববন্ধন করতেই পারে। আমার এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই।

মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা বলেন, বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের নির্বাচনী তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করেছেন। সম্প্রতি তিনি গাইবান্ধার প্রেসক্লাব সভাপতিকে তার সম্মেলন কক্ষ থেকে বের করে দেন।
এ সব ঘটনার প্রতিবাদে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের বদলির দাবি জানিয়ে দেশের প্রথম সারির জাতীয় পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল, স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন গণমাধ্যমের ২১ জন সাংবাদিক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আবেদন দেন।
এ ছাড়া একই দাবিতে চলতি মাসেই মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠনের ৪২ জন স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র পাঠানো হয় মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন সচিব বরাবর।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভে সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা জেলার সিনিয়র সাংবাদিক সিদ্দিক আলম দয়াল। বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আমিনুল ইসলাম গোলাপ, জাতীয় শ্রমিক জোটের গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ বাবু, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন, আইনজীবী সালাউদ্দিন কাশেম, মানবাধিকার কর্মী দিবা বেগম।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন সাংবাদিকরা কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন।
পাঁচবিবিতে স্কুলছাত্র হত্যায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড