জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলীয় বাভারিয়া রাজ্যের অ্যালপাইন পর্বতমালার চূড়ায় অবস্থিত হিটলারের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক অবকাশ কেন্দ্র কেলস্টাইন হাউস ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি প্রাসাদটি বিশ্বজুড়ে ‘ঈগলস নেস্ট’ নামে পরিচিত, যা পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।
শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে মারাত্মক বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকে।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকাল পর্যন্ত ভবনটিতে আগুন জ্বলছিল এবং তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন প্রায় ২০০ জন জরুরি উদ্ধারকর্মী। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের ঘটনার পরপরই পুলিশ এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে। আগুন লাগানোর পেছনে ওই ব্যক্তির কোনো হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮০০ মিটার বা ৫,৯০০ ফুট উঁচুতে বের্চটেসগ্যাডেন শহরের ওপরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক ভবনটির নির্মাণকাজ ১৯৩৮ সালে নাৎসি আমলে শেষ হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি স্বৈরশাসক অ্যাডলফ হিটলার এবং তাঁর সহযোগীরা অঞ্চলটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতেন। কাছেই অবস্থিত 'বার্গহফ' বাসভবন থেকে ১৯৪১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন হিটলার। এ ছাড়া নাৎসি প্রোপাগান্ডা ফিল্মের জন্য এই নান্দনিক স্থানটিকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

১৯৪৫ সালে নাৎসিদের পরাজয়ের পরও অক্ষত অবস্থায় টিকে থাকা এই ভবনটি পরবর্তীতে একটি পাহাড়ি পান্থশালা এবং পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়। এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, স্থানটি নাৎসি স্বৈরাচারী শাসনের ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দেয়ার একটি সতর্কবার্তা হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপীয় ইহুদিদের গণহত্যাসহ কোটি কোটি মানুষের করুণ মৃত্যুর জন্য হিটলার এবং তাঁর বাহিনী দায়ী ছিল।
উল্লেখ্য, জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় হিটলারের স্মৃতিবিজড়িত ভবনগুলো সংরক্ষণ, ভিন্ন কাজে ব্যবহার নাকি গুঁড়িয়ে দেওয়া উচিত, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক চলছে। ঐতিহাসিক মূল্য বিবেচনা করে একটি পক্ষ সংরক্ষণের পক্ষে কথা বললেও, অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এসব স্থান নব্য-নাৎসি ও উগ্র ডানপন্থীদের তীর্থস্থানে পরিণত হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় গত জুনে বার্লিনে হিটলারের একটি বাঙ্কার ভেঙে আবাসিক ফ্ল্যাট ও অফিস করার ঘোষণা দেওয়া হয়। অন্যদিকে চলতি বছরের জুলাইয়ে অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউ আম ইন শহরে হিটলারের জন্মভিটাটি সংস্কার করে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে রূপান্তর করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
