নতুন শিক্ষাক্রমে চালু হওয়া জাতীয় পাঠ্যপুস্তকের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিষয়ে অনুসন্ধানী পাঠ্য বইয়ের কিছু অধ্যায় ভিনদেশি উৎস বিভিন্ন ব্লগ ও কোচিং সেন্টারের ওয়েবসাইট থেকে নকল করার অভিযোগ উঠেছে। বইটির সম্পাদক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল অবশ্য এই অভিযোগ নাকচ করেছেন।
তবে লেখক প্যানেলের একজন বলছেন, বিজ্ঞান বইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই এটিকে নকল বলা যাচ্ছে না। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য নেওয়াকে নকল বলা যায় না।
চলতি শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণীর বিজ্ঞানের দুইটি বইয়ের মধ্যে অনুসন্ধানী পাঠ বইটির বল, চাপ ও শক্তি অধ্যায়ে তৃতীয় পৃষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের স্থিতি ও গতি জড়তা বোঝানোর জন্য কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, এটা নেওয়া হয়েছে মিশর ভিত্তিক একটি সফটওয়্যার কোম্পানির ব্লগ থেকে। ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল আপডেট হওয়া মিসরের প্রাক্সিল্যাবস ডটকম থেকে উদাহরণটি নেয়া হয়েছে।
গাড়ি হঠাৎ ব্রেক করলে কি হতে পারে তা বোঝাতে যে উদাহরণ সামনে এসেছে তার সাথে অনেকটাই মিলে যায় মিশরের প্রক্সিল্যাবস ডটকমের উদাহরণ।
দ্বিতীয় উদাহরণে একটি গ্লাসের ওপরে এক টুকরো শক্ত কাগজ বা কার্ডবোর্ডের ওপর একটি মুদ্রা রাখার বিষয়টি নেওয়া হয়েছে একই প্রাক্সিল্যাবস ডটকম ওয়েবসাইট থেকে।
নবম শ্রেণীর বইটির সম্পাদক অধ্যাপক জাফর ইকবাল এটিকে খেলো অভিযোগ ছাড়া কিছুই বলতে চান না। তিনি বলেন, একই পাঠ্যপুস্তক রচনার সঙ্গে অনেকে জড়িত থাকেন, যাদের শ্রম ও নিষ্ঠার ফল বইটি।
তবে বইটির লেখক প্যানেলের একজন বলছেন, ক্ল্যাসিক উদাহরণ চলতেই থাকে। শিক্ষার্থীদের বোঝার সুবিধার্থে সহজ ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে।
কারিকুলাম নিয়ে কাজ করা পদার্থবিদ্যার শিক্ষক অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলছেন, বিষয়টা যখন বিজ্ঞান তখন নিজেদের তৈরি জ্ঞান না থাকায় আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, সেই সাথে পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে স্বচ্ছতার প্রশ্নে চুপ না থেকে বিষয়টি ব্যাখ্যা দেওয়ার পরামর্শও দেন। যদি আসলেই কোন সমস্যা থাকে, তাহলে সেটি পরবর্তী সংস্করণে ঠিক করা সম্ভব।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফরহাদুল ইসলাম, নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমের আলোকে লেখা বিভিন্ন বইয়ে যদি কোন অসংগতি থাকে তাহলে সেটি পরীক্ষা করে সংশোধন হবে। এনিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরি না করতেও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মেডিকেল ভর্তিতে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা: হাইকোর্ট