চলচ্চিত্র ইতিহাসের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ হাতেগোনা কয়েকজন অভিনেতার একজন হিসাবে বিবেচনা করা হয় আল পাচিনোকে। চলচ্চিত্রে ব্যাপক উপস্থিতি এবং অভিনীত চরিত্রগুলির বৈচিত্রময়তার দিক দিয়ে বিচার করলে তার জুড়ি হতে পারেন কেবল মার্লোন ব্রান্ডো এবং রবার্ট ডি নিরোর মতো মহান অভিনেতাগণ। গডফাদার এবং ডগ ডেই আফটারনুন এর মতো অমর চলচ্চিত্রে করা অতুলনীয় অভিনয় অভিনেতা হিসাবে পাচিনো'কে নিয়ে গেছে অনতিক্রম্য উচ্চতায়।
এবার অস্কার মঞ্চে ঘটে যাওয়া আলোচিত কিছু ঘটনার মধ্যে একটি..
অস্কার মঞ্চে সেরা সিনেমার পুরস্কার দিতে মঞ্চে ওঠেন অভিনেতা আল পাচিনো। তাড়াহুড়া করেই পুরস্কারের নাম ঘোষণা করেন। পুরস্কার তুলে দেন বিজয়ীর হাতে। কিন্তু বাদ যায় একনজরে মনোনয়ন দেখে নেওয়ার পর্বটি। এতেই সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই বলছেন, ভুল করেছেন আল পাচিনো।
মনোনয়ন ঘোষণা না করে এর আগে পুরস্কার ঘোষণা হয়নি। তাহলে হলিউডের জমকালো আয়োজনে কি আল পাচিনো আসলেই ভুল করে বসলেন? সেই প্রসঙ্গে এই অভিনেতা বলেন, ‘বিষয়টি আমি পরিষ্কার করতে চাই, আমি ইচ্ছাকৃতভাবে মনোনয়ন দেখে নেওয়ার পর্বটি বাদ দিইনি। অনুষ্ঠানজুড়েই পর্দায় সেরা সিনেমার মনোনয়ন দেখানো হয়েছে। সেখানে আলাদা করে মনোনয়ন দেখানোকে দৃষ্টিগোচর করার প্রয়োজন মনে করেননি অনুষ্ঠানের প্রযোজকেরা। তাদের কথামতোই আমাকে অংশটি উপস্থাপন করতে হয়েছে।’
তবে এ ঘটনায় অনেকেই মর্মাহত হয়েছেন। সেই খবর পেয়েছেন এই অভিনেতা। তিনি তাঁদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘মনোনয়ন পাওয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁদের পুরোপুরি স্বীকৃতি না দেওয়াটা আপত্তিজনক। সিনেমার সংশ্লিষ্ট নির্মাতা, অভিনেতা, প্রযোজক যাঁরা ভাবছেন, এর মধ্য দিয়ে আপনাদের তুচ্ছ করা হয়েছে, তাঁদের প্রতি আমার সহানুভূতি।’
গত বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমা ছিল ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওপেনহেইমার’। আণবিক বোমার জনক রবার্ট ওপেনহেইমারকে নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি ১৩টি শাখায় মনোনয়ন পায়। অস্কারে সর্বোচ্চ সাতটি শাখায় পুরস্কার জিতেছে সিনেমাটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক বোমা হামলার ক্ষত এখনো তাড়া করে ফেরে পৃথিবীকে। অথচ সেই আণবিক বোমার জনক জে রবার্ট ওপেনহেইমারকে নিয়ে নির্মিত সিনেমা ওপেনহেইমারকে নিয়ে মাতামাতি নতুন করে উসকে দিল সেই পুরোনো প্রশ্নকে—ক্রিস্টোফার নোলানের ওপেনহেইমার সিনেমাটি দিয়ে কি নিজেদের ইমেজে একটু প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করছে পশ্চিমা বিশ্ব? কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন যে সিনেমাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মতাদর্শকে প্রচার করা হয়েছে। পারমাণবিক বোমা ও ওপেনহেইমারের সাফাই গাওয়া হয়েছে। তবে বিতর্ক যা–ই হোক, মুক্তির পর ব্যবসায়িক সাফল্য থেকে শুরু করে সমালোচকদের প্রশংসা—সবই পেয়েছে ওপেনহেইমার। পেয়েছে গোল্ডেন গ্লোব, বাফটাসহ চলতি বছরের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার। অস্কারেও যে ছবিটি রাজত্ব করবে, সে পূর্বানুমান আগেই করেছিলেন সমালোচকেরা। হলোও তা–ই। গত সোমবার ভোরে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে জিমি কিমেলের সঞ্চালনায় বসেছিল ৯৬তম অস্কার অনুষ্ঠান।
