পর্দা উঠেছে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪৯ তম আসরের। স্থানীয় সময় শুক্রবার শুরু হওয়ার পর শহরটির কিং স্ট্রিটস ও রিচমন্ড স্ট্রিটস ঘিরে এখন উৎসবের রঙ। লাল গালিচায় আলো ছড়াবেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, সালমা হায়েক, সেলেনা গোমেজের মতো তারকারা। ১১ দিনের উৎসবে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে যোগ দিচ্ছেন অন্তত চার লাখ সিনেমাপ্রেমী।
উৎসবে ‘ডিসকভারি’ প্রোগ্রামে নির্বাচিত ২৪টি চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে বাংলাদেশের নির্মাতা মাকসুদ হোসেনের ডেব্যু সিনেমা ‘সাবা’।
অসুস্থ মাকে নিয়ে সাবা নামে তরুণীর জীবন সংগ্রামকে সেলুলয়েডে বুনেছেন এই নির্মাতা। ছবির নাম ভূমিকায় রয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী। এটি তার অভিনীত প্রথম ফিচার ফিল্ম।
স্ত্রী ত্রিলোরা খানকে নিয়ে ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন মাকসুদ। বলা যায়, ত্রিলোরার ব্যক্তিগত জীবনের লড়াই থেকে গল্পটি উৎসারিত।
‘সাবা’ প্রদর্শিত হবে শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটা ৪৫ মিনিটে।

সিনেমা ‘সাবা’ নিয়ে একাত্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন নির্মাতা মাকসুদ হোসেন।
ডেব্যু সিনেমা নিয়ে টরন্টোরর মতো প্রেস্টিজিয়াস ফেস্টিভালে ঠাঁই করে নেওয়া খুবই গৌরবের জানিয়ে মাকসুদ বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম সার্কিটে ‘বিগ ফোর’ বলে পরিচিত কান, ভেনিস, বার্লিনের সঙ্গেই উচ্চারিত হয় টরন্টো ফেস্টিভালের নাম। তাতে ‘ডিসকভারি’ প্রোগ্রামে ২৪ সিনেমার একটি ‘সাবা’। এই প্রোগ্রামটি মূলত নবাগত ও উদীয়মান নির্মাতাদের প্লাটফর্ম। এটা আমার জন্য খুব বড় পাওয়া। আশার বাইরে পাওয়া।
‘সাবা’র গল্প সম্পর্কে মাকসুদ বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে সাবা। সে তার অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করে। পরিবারে আর কোনো সদস্য নেই। আর্থিক সঙ্গতিও তলানিতে। এমন পরিস্থিতিতে সাবা কী করতে পারে তার মাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য? এখান থেকেই গল্পের শুরু।
মিনিম্যালাস্টিক অ্যাপ্রোচে তৈরি ছবিটি খুব অল্প বাজেটের একটা ইমোশনাল গল্প বলেও জানান মাকসুদ।
২৩ বছর আগে শর্ট ফিল্ম বানানো এই নির্মাতা বলেন, তারও ১০ বছর আগ থেকে স্বপ্ন দেখতাম সিনেমা বানাবো। যখন আমি ‘সাবা’র গল্প ভাবছিলাম, আমার মনে হয়েছে, আমি এ ধরনের গল্পই বলতে চেয়েছি। কে কীভাবে দেখবে ভাবিনি। আমি যখন ছবিটা নিয়ে ফিল্ম বাজার, এশিয়ান প্রজেক্ট মার্কেট, কান উৎসবের কো প্রোডাকশন ডেসহ বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছিলাম, তখন অনেকেই ছবিটি নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেছে। কিন্তু ছবিটা আমার ভেতরে ছিল। আমি চেয়েছি ছবিটা বানাতে। ভাবিনি, ছবিটা কোথাও কোনো উৎসবে যাবে। আমি নিজের গল্প বলতে চাই। এমন পার্সোনাল স্টোরিই বলতে চাই।

‘সাবা’ নির্মাণের গল্প বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা জানুয়ারিতে শীতের মধ্যে শুটিং করেছে ১৮ থেকে ২২ দিন। আমাকে ২১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে সিনেমাটি বানাতে। এর মধ্যে আমি ১৫টির মতো শর্ট ফিল্ম বানিয়েছি। শতাধিক বিজ্ঞাপন বানিয়েছি। তাই এই শুটিং টাইমটা আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের। প্রত্যেকটা মোমেন্টে কোনো না কোনোভাবে স্টারস এলাইন করেছে। অভিনেতা বলেন, ক্র্রু বলেন-সবাই শতভাগের ওপর দিয়েছেন। তাই বলতে পারি, একটা আনন্দের সুর ছিল শুটিংয়ের ওই সময়টায়।
মেহজাবীন সম্পর্কে তিনি বলেন, তার কাস্টিংটা ছিল খুব মজার। যখন স্ক্রিপ্ট শেষ হলো তখন ভাবছিলাম, যদি সাবা চরিত্রের কাস্টিং সঠিক না হয়, তাহলে ছবিটা দেখার মতো হবে না। সম্পূর্ণ গল্পটা ‘সাবা’র পারস্পেকটিভ থেকে। অনেক অডিশন নিয়েছি। কিন্তু কাউকেই মন থেকে নিতে পারছিলাম না। তখন আমার স্ত্রী চিত্রনাট্যকার ত্রিলোরার পরামর্শে মেহজাবীনের সঙ্গে যোগাযোগ করি।
মাকসুদ বলেন, সাবা নিয়ে মেহজাবীনের সঙ্গে প্রথম আলাপেই মনে হলো, সে পারফেক্ট। এর আগে সে সিনেমা করেনি। সিনেমার জন্য মুখিয়ে ছিল। দুই দিনের মধ্যে স্ক্রিপ্ট পড়ে সে সম্মতি জানায়। তারপর আমরা ছয় মাসের মতো রিহার্সেলের মধ্য দিয়ে যাই। তারপর শুটিং। তখন মনে হয়েছে, গল্পটা লিখেছিলাম মহেজাবীনের জন্য।
কোনো দ্বিধা আমাদের মধ্যে ছিল না। শুধু শুটিংয়ে কিছুটা রিফাইন করেছি। সেটে আমরা আসলে প্লে করেছি। রিহার্সেলেই আমরা আসলে সব জানতাম। পরস্পরের প্রতি কমফোর্ট ছিলাম। বিশ্বাস ছিল। অভিনেত্রী তার ভালনারবেল পয়েন্টটা শেয়ার করেছে। আমাদের মধ্যে একটা আনসেইড ট্রাস্ট ছিল; যোগ করেন মাকসুদ।
মেহজাবীন ছাড়া অন্য চরিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম মোস্তফা মনোয়ার, রোকেয়া প্রাচী। চিত্রগ্রহণ করেছেন বরকত হোসেন পলাশ।
