স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স ঘোষণা করেছে, তারা ওয়ার্নার ব্রস ডিসকভারির টিভি ও ফিল্ম স্টুডিও এবং স্ট্রিমিং বিভাগ অধিগ্রহণ করবে। ঋণসহ যার সম্পদ মূল্য ৮২ দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার। এটি হলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো লেনদেনগুলোর একটি।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) নেটফ্লিক্স এই ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
লেনদেনের বিস্তারিত সম্পর্কে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে,এতে ওয়ার্নার ব্রসের শেয়ারহোল্ডাররা প্রতি শেয়ার ২৭ দশমিক ৭৫ ডলার নগদ এবং নেটফ্লিক্সের শেয়ার পাবেন। এই অধিগ্রহণে অন্তর্ভুক্ত হবে টিভি ও ফিল্ম স্টুডিও, স্ট্রিমিং বিভাগ (যার মধ্যে আছে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারের এইচবিও ম্যাক্স) এবং ‘গেম অফ থ্রোনস’, ডিসি কমিক্স ও হ্যারি পটারের মতো আইকনিক ফ্র্যাঞ্চাইজি। এই ডিলের জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলা বিডিং যুদ্ধে নেটফ্লিক্স প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্সের ২৪ ডলার প্রতি শেয়ারের অফারকে ছাড়িয়ে ২৮ ডলার প্রতি শেয়ারের বিড দিয়ে জিতেছে। বৃহস্পতিবার ওয়ার্নার ব্রস ডিসকভারির শেয়ার মূল্য ছিল ২৪ দশমিক পাঁচ ডলার, যা কোম্পানির মার্কেট ভ্যালু ৬১ বিলিয়ন ডলার করে তুলেছে।
কৌশলগত দিক থেকে, এই অধিগ্রহণ নেটফ্লিক্সকে শিল্পের কয়েকটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির নিয়ন্ত্রণ দেবে এবং মিডিয়া ল্যান্ডস্কেপে তার আধিপত্য আরও শক্তিশালী করবে।
নেটফ্লিক্স দাবি করেছে, এইচবিও ম্যাক্সের সঙ্গে তাদের সার্ভিস একত্রিত করে গ্রাহকরা কম দামে বান্ডেল প্রাইসিংয়ের সুবিধা পাবেন। এছাড়া, ওয়ার্নার ব্রসের ফিল্মগুলোর থিয়েটার রিলিজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা নিয়ন্ত্রকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে।
এদিকে একাধিক প্রস্তাব দিয়ে বিডিং যুদ্ধ শুরু করা প্যারামাউন্টের নেতৃত্বাধীন ডেভিড এলিসন লেনদেন প্রক্রিয়ায় নেটফ্লিক্সের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। তবে অন্য কোনো নির্বাহী বা বিশ্লেষকের নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
এই ডিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অ্যান্টিট্রাস্ট তদন্তের মুখোমুখি হবে, কারণ এতে নেটফ্লিক্স একটি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর নিয়ন্ত্রণ পাবে। রেগুলেটরিজের উদ্বেগ কমাতে নেটফ্লিক্স ওয়ার্নারের ফিল্মগুলোর সিনেমাটিক কনটেন্ট হিসেবে থিয়েটার রিলিজ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার দিয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, মিডিয়া শিল্পে এর প্রভাব হবে গভীর—গ্রাহকদের জন্য কম দামের সুবিধা হলেও নেটফ্লিক্সের আধিপত্যের কারণে অ্যান্টিট্রাস্ট সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অপরদিকে, প্যারামাউন্টের অভিযোগ রেগুলেটরি রিভিউকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি স্ট্রিমিং যুগে হলিউডের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, যেখানে কয়েকটি জায়ান্ট কোম্পানি বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে।
