৯৮তম অস্কারের মঞ্চে এবার কেবল সিনেমার গ্ল্যামার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুন আর রাজনীতির উত্তাপও বেশ ভালোভাবেই টের পাওয়া গেল। রোববার আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে বিশ্ববাসীর নজর কেড়ে নিলেন স্প্যানিশ তারকা হাভিয়ার বারদেম। পাশে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে নিয়ে অস্কারের মঞ্চ থেকেই তিনি চিৎকার করে বললেন- ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন, যুদ্ধকে না বলুন’।
বিশ্ব রাজনীতির অস্থির সময়ে বসেছিল সিনেমার সবচেয়ে বড় আসর ৯৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস। একদিকে যখন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পুরো বিশ্বের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে, তখন অস্কারের মঞ্চকে প্রতিবাদের হাতিয়ার বানালেন স্প্যানিশ মহাতারকা হাভিয়ার বারদেম। তাঁর এই সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান এখন হলিউড ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।

সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগের পুরস্কার দিতে মঞ্চে উঠেছিলেন হাভিয়ার বারদেম এবং বলিউড-টু-হলিউড ডিভা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। পরনে কালো টাক্সিডো, আর বুকে পিন করা ‘নো টু ওয়ার’ (যুদ্ধে না বলুন) ব্যাজ। পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়ার আগেই বারদেম গর্জে উঠে বলেন, যুদ্ধে না বলুন এবং মুক্ত হোক ফিলিস্তিন! তাঁর এই কথায় পুরো হলরুম করতালিতে ফেটে পড়ে।
পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া স্মিত হাসিতে এই সাহসী মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে রইলেন। এরপর তাঁরা নরওয়ের সিনেমা ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’-র হাতে সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় রেড কার্পেটেও বারদেম ছিলেন বেশ কড়া মেজাজে। সাংবাদিকদের তিনি জানান, তাঁর বুকে থাকা ব্যাজটি ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময়কার। তিনি বলেন, ২৩ বছর আগে ইরাক যুদ্ধ ছিল অবৈধ, আর আজ ট্রাম্প-নেতানিয়াহু আরেক মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তাও অবৈধ।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক কোন্যান ও’ব্রায়েন তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বর্তমান সময়কে ‘অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও ভীতিকর’ বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি আশাবাদ জানান, বিশ্বের ৬টি মহাদেশের ৩১টি দেশের প্রতিনিধিরা আজ এখানে উপস্থিত। হাজার হাজার মানুষের পরিশ্রম আর বৈশ্বিক শৈল্পিক মেলবন্ধনের নামই হলো সিনেমা।

পুরস্কারের দৌড়ে এবার সবাইকে টেক্কা দিয়েছে পল থমাস অ্যান্ডারসনের ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’। লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনীত এই ছবিটি ১৩টি মনোনয়নের মধ্যে সেরা ছবি, সেরা পরিচালক ও সেরা পার্শ্ব অভিনেতা সহ মোট ৬টি অস্কার নিজের ঝুলিতে পুরে নিয়েছে। এছাড়া রায়ান কুজলারের ‘সিনার্স’ ৪টি এবং গুইলারমো ডেল টোরোর ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ ৩টি বিভাগে জয়ী হয়েছে।
২০২৬ সালের অস্কার শুধু সোনালি ট্রফি জয়ের উৎসব হয়ে থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে যুদ্ধবিরোধী এক বিশাল প্ল্যাটফর্ম। একদিকে ডিক্যাপ্রিও-র শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট, অন্যদিকে বারদেমের প্রতিবাদী কণ্ঠ- সব মিলিয়ে এবারের অস্কার ইতিহাসের পাতায় এক ভিন্ন কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
