এক সপ্তাহের ভেতর দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলায় ঘটনা ঘটলো পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের তাইগ্রেতে। এ বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের বেশিরভাগই নারী। তাইগ্রের মাইসেবরি শহরে এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন লোক।
মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তাইগ্রেতে কাজ করা দু’জন ত্রাণকর্মী বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ খবর জানিয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) ইথিওপিয়ার একই অঞ্চলে শরণার্থীদের একটি আশ্রয় শিবিরে বিমান হামলায় ৫৬ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হন। বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহত এবং ভোগান্তির বিষয়ে সোমবার টেলিফোনে আলাপকালে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
তবে মাইসেবরি শহরে বিমান হামলার ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল গেটনেট আদানে এবং সরকারের মুখপাত্র লিগেসে তুলু তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
আরও পড়ুন: দৈনিক শনাক্তের সব রেকর্ড ভাঙলো যুক্তরাষ্ট্র
তাইগ্রে বিদ্রোহীদের সঙ্গে গত ১৪ মাসের সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইথিওপিয়ার সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবি আহমেদ সরকারের ফেডারেল বাহিনী এবং ইরিত্রিয়া-সমর্থিত আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) বিদ্রোহীদের লড়াই চলছে।
ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর টিপিএলএফের ২৭ বছরের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে ২০১৮ সালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেন আবি আহমেদ। কিন্তু তারপরও তাইগ্রে অঞ্চলের ক্ষমতায় ছিল দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী টিপিএলএফ।
২০২০ সালের নভেম্বরে এই অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে টিপিএলএফের নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এই সংঘাতের জন্য উভয়পক্ষ পরস্পরকে দায়ী করেছে।
একাত্তর/এসএ
