২০৫০ সালের মধ্যে জাপান তার গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায়। দেশটির গবেষকরা এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কাজ করছেন। জাপানের ভূমি মন্ত্রণালয় বলছে, এই সমস্যা সমাধানের আংশিক উত্তর হয়তো পানির নিচে রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা "ব্লু কার্বন বা নীল কার্বন" নামে পরিচিত একটি ধারণার উপর গবেষণা চালাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায় সামুদ্রিক উদ্ভিদগুলো সমুদ্রের নিচে গ্রিনহাউস গ্যাস শুষে নেবে অর্থাৎ পরিবেশে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমে আসবে।
জীবজগতের প্রধান গাঠনিক ও প্রাচীনতম মৌল উপাদানগুলোর একটি হলো কার্বন, বাংলায় অঙ্গারক। অঞ্চল ও পরিবেশ ভেদে কার্বন তার গঠন পরিবর্তন করতে পারে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রেও কার্বনের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। মহাসাগরীয় এবং উপকূলীয় অঞ্চলে উদ্ভিদের সঙ্গে কার্বনের এই বিশেষ সম্পর্ক ও বৈশিষ্ট্যকে 'ব্লু কার্বন' বলা হয়।
বেশিরভাগ শৈবাল, সমুদ্রঘাস, ম্যাক্রোঅ্যালগি, ম্যানগ্রোভ বন, লবানক্ত জলাভূমি এবং উপকূলীয় জলাভূমির উদ্ভিদে কার্বন ধারনের এই বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়। সমুদ্রের এ উদ্ভিদগুলো গ্রিনহাউস গ্যাস শুষে নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ রুখতে সমুদ্রের উদ্ভিদগুলো ভূমির উপরের অরণ্যের চেয়ে দু’গুণেরও বেশি কার্যকর। জাপানের ১২৫টি প্রধান প্রধান সমুদ্র বন্দরের আশেপাশে ইতিমধ্যেই এই সামুদ্রিক উদ্ভিদগুলো ১১ হাজার পরিবারের এক বছরের কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের সমান গ্যাস শুষে নিয়েছে।
এই ধারণার মূল লক্ষ্য হলো, উপকূলীয় প্রতিবেশ-ব্যবস্থাকে সুরক্ষা প্রদান এবং ক্ষয় ও দূষণের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধার করা।
কার্বন নিঃসরণের ক্ষতি কমিয়ে আনতে চাওয়া বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে "ব্লু কার্বন" বিক্রির মাধ্যমে এই খাতের গবেষণা তহবিল যোগানের চেষ্টায় রয়েছে জাপান সরকার।
একাত্তর/আরবিএস
