মারিউপোলে ইউক্রেনীয় সেনাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে বলে জানিয়েছে সেখানকার মেরিন কমান্ডার। যে কোন সময় ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় বন্দরনগরী রুশদের দখলে চলে যাবে।
এদিকে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে আরও সামরিক সহায়তা চেয়েছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এছাড়া লুহানস্কের ৮০ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর।

একটু একটু করে পুরো বন্দরনগরী মারিউপোল শহর ঘিরে ফেলেছে রুশ বাহিনী। মারিউপোলের শেষ সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছে গেছে রুশ সেনারা।
ভস্টল ইস্পাত কারখানায় মাটির নিচে বেসমেন্টে আশ্রয় নিয়েছে ইউক্রেনের সেনা বাহিনী। তাদের সঙ্গে রয়েছে হাজার খানেক বাসিন্দা। সেখান থেকেই ভিডিওবার্তায় মেরিন কম্যান্ডার সেরহি ভলনা জানান সেখানে আহত অবস্থায় রয়েছে কমপক্ষে ৫০০ সেনা।
ইউক্রেনের অবরুদ্ধ বন্দরনগরী মারিউপোলের নিয়ন্ত্রণ বৃহস্পতিবার রুশ বাহিনীর হাতে চলে যাবে বলে জানিয়েছেন পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ। তার অধীনে থাকা বাহিনীগুলোও ইউক্রেনে রাশিয়ার পক্ষ হয়ে লড়াই করছে।
ইস্পাত কারখানায় অবরুদ্ধ সেনা ও বেসামরিকদের সরিয়ে নিতে ইউক্রেনের আলোচনার প্রস্তাব পাওয়ার পরই কাদিরভের এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য আসলো। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের আগেই মারিউপোল পুরোপুরি রাশিয়ার দখলে চলে যাবে।

রাশিয়া ওই অঞ্চলে ইউক্রেনের বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করার জন্য যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল, তা এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে। কেউ আত্মসমর্পণ করেনি। ভলিনাও জানিয়েছেন, তাঁর বাহিনী আত্মসমর্পণ করবে না। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থন চেয়েছেন তিনি।
এদিকে ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের পরিস্থিতি ভয়াবহ উল্লেখ করে পশ্চিমাদের কাছে আরও সামরিক সহায়তা চেয়েছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তিনি বলেন, ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। দখলদাররা ব্যাপক আকারে অভিযান শুরু করেছে। তবে আমাদের সেনারাও আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষায় বদ্ধপরিকর। আমাদের সেনাদের অস্ত্র সরবরাহে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

লুহানস্ক শহরের ৮০ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে চলে গেছে বলেও দাবি করেছেন অঞ্চলটির গভর্নর। এছাড়া খারকিভ অঞ্চলে মুহুর্মুহু রকেট নিক্ষেপ করে রুশ সেনারা। রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনের সেনারা
যুদ্ধের এমন ভয়াবহতায় প্রতিদিনই দেশ ছাড়ছে হাজারো মানুষ। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত ৫০ লাখের বেশি মানুষ কিয়েভ ছেড়েছেন। এসব শরনার্থীদের ৯০ শতাংশই নারী-শিশু। আর জাতিসংঘের অভিবাসী সংস্থা আইওএম বলছে, ইউক্রেনে ৭১ লাখ মানুষ বাড়ি ছেড়েছেন।

একাত্তর/এআর
