মারিউপোলের এমন কোনো ভবন নেই, যাতে রুশ হামলার ক্ষতচিহ্ন নেই। রাজ্যজুড়ে ধ্বংসস্তূপ আর মরদেহের ছড়াছড়ি।
কেনো এতোটা নিষ্ঠুর রুশ বাহিনী? মারিউপোল পেতে পুতিন কেনো মরিয়া? বড় দাগে চারটি কারণ উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।
২৪শে ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা করে রাশিয়া। শুরু থেকেই নজরে বন্দরনগরী মারিউপোল। শুধু বন্দর বলেই নয়, এটি ইউক্রেনের অন্যতম বড় শহরও বটে।

রুশ বাহিনীর টানা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত এখন নেই শহর। রাশিয়ার কাছে মারিউপোল কেনো গুরুত্বপূর্ণ, পুতিন কেনো এতো মরিয়া- এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে গোটা বিশ্বে।
২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া। ডনবাসে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহযোগিতাও দিচ্ছে মস্কো। আর দুই অঞ্চলের মাঝখানে রয়েছে মারিউপোল।
মারিউপোলের মধ্যে দিয়ে ডনবাস ও ক্রিমিয়ার সঙ্গে স্থলপথ তৈরি করতে চান পুতিন। বাড়াতে চান ইউক্রেনের অভ্যন্তরে হামলা।

ইতোমধ্যে মারিউপোল দখলের দাবি করেছে মস্কো। কিয়েভ জানায়, আজভ ইস্পাত কারখানা রক্ষায় শেষ যুদ্ধ লড়ছে তারা।
আজভ সাগরে ইউক্রেনের প্রধান বন্দর মারিউপোল। এটি দখলের মাধ্যমে ইউক্রেনকে বিশ্ব বাণিজ্য থেকেও হটাতে চায় মস্কো।
মারিউপোল হারানোর অর্থ কৃষ্ণ সাগরে ৮০ শতাংশ প্রবেশাধিকার হাতছাড়া ইউক্রেনের। কব্জা করা কিয়েভের অর্থনীতি। যাতে রাশিয়ার দিকে চোখ তোলে তাকাতে না পারে ইউক্রেন।
ইউক্রেনে হামলার কারণে মস্কোর বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পশ্চিমা ও তাদের মিত্ররা। তাদের ধারণা, রাশিয়া অল্প সময়ে ইউক্রেন দখলে নিয়ে বিজয় ঘোষণা করবে।

দুই মাস হতে চললেও বড় কোনো সফলতা পায়নি রুশ বাহিনী। এ অবস্থায় মারিউপোল জয়ের মাধ্যমে নিজের সক্ষমতা প্রমাণের পাশাপাশি পরাশক্তি হিসাবে রুশ সম্মান রক্ষা।
আরও পড়ুন: মারিউপোল পুরোপুরি ‘মুক্ত’ করার দাবি রাশিয়ার
মারিউপোলে জয় রুশ বাহিনী এবং রুশ নাগরিকদের মনোবল বাড়াবে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, বড় জয় না পাওয়ায় মনোবল খুইয়ে খুড়িয়ে লড়ছে রুশ বাহিনী।
মারিউপোল দখলের মাধ্যমে রাশিয়া প্রচার করতে চায়, তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে। এক পক্ষ মনেও করেন কিয়েভ নয়, মারিউপোল দখলই ছিলো ক্রেমলিনের আসল উদ্দেশ্য।
