যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার ইউক্রেন সংকট সমাধানের উপায় খুঁজে বের করতে সর্বসম্মতভাবে একমত হয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এরমধ্যেই, ইউক্রেনকে আরও ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আর রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনের বিশাল একটি অস্ত্রের গুদাম এবং আরও দুইটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে মস্কো। সেই সঙ্গে দেশটিতে পরিকল্পনা মতোই অভিযান চলছে।
অন্যদিকে, কিয়েভে দাবি করেছে, খারকিভ শহরের কাছে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সেনাবাহিনী। ইউক্রেন সেনা সূত্রের দাবি, পাঁচটি গ্রাম তারা পুনর্দখল করেছে।
আর আমেরিকাভিত্তিক একটি সামরিক সমীক্ষা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, খুব শিগগিরই রাশিয়ার কাছ থেকে খারকিভের নিয়ন্ত্রণ নেবে ইউক্রেনীয় সেনারা।

মারিউপোলের আজভস্টল ইস্পাত কারখানায় আটকে পড়াদের সরিয়ে নিতে দিনের বেলায় হামলা বন্ধ থাকলেও রাতে ভয়াবহ আগ্রাসী হয় উঠে রুশ বাহিনী।
কিয়েভের অভিযোগ, দিনের বেলায়ও হামলা চালানো হচ্ছে। জাতিসংঘের সহায়তায় শুক্রবার ৫০ জনকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবারও দিনের বেলায় যুদ্ধবিরতি চলছে।
এদিকে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মিসাইল হামলায় পূর্ব ইউক্রেনের অস্ত্রের একটি বিশাল গুদাম গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পূর্ব লুহানস্কে ভূপাতিত করা হয়েছে ইউক্রেনের দুটি যুদ্ধবিমান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ডনবাসে রুশ বাহিনী তেমন কোন সাফল্য পায়নি। ইউক্রেনীয়দের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়েছে রুশ সেনারা।
এই অবস্থায় কিয়েভকে আত্মরক্ষার জন্য আরও ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সামরিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
তহবিল দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, তাই শিগগিরিই অর্থ ছাড়ে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। ইউক্রেনকে গোয়েন্দা সহায়তাও দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

রুশ রণতরী মস্কোভা ডুবাতে ওয়াশিংটন গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে জানায় মার্কিন গণমাধ্যম।
এদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সংস্থার মহাসচিব ইউক্রেন সংকট সমাধানে শান্তিপূর্ণ উপায় খোঁজার প্রস্তাবে সর্বসম্মতভাবে সমর্থন দিয়েছে।
সংক্ষিপ্ত সভায় যুদ্ধ, সংঘাত, আগ্রাসন শব্দগুলো উচ্চারিত হয়নি। অধিকাংশ সদস্য সামরিক অভিযান বলেছে। রাশিয়া জানিয়েছে, বিশেষ সামরিক অভিযান।
এরমধ্যেই সোমবার রাশিয়ার জাতীয় দিবসে জার্মান চ্যান্সেলর উলফ সলৎজকে ইউক্রেনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
গত মাসে ইউক্রেন যুদ্ধে জার্মানির অবস্থানের সমালোচনাও করেন তিনি। এছাড়া, গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে, রুশ বাহিনী প্রত্যাহার ছাড়া শান্তিচুক্তি নয় বোলেও জানান জেলেনস্কি।
একাত্তর/এসজে
