যুক্তরাজ্যে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত রোগীদের উপসর্গসমূহ আগের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত রোগীদের চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে আলাদা বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
শনিবার (২ জুলাই) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবছরের মে মাসে লন্ডনের যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকে ৫৪ রোগীর ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, জ্বর ও ক্লান্তিভাব কম হলেও তাদের গোপনাঙ্গের আশেপাশের ত্বকে ক্ষত বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মাঙ্কিপক্স আক্রান্তরা।
ল্যানসেট ইনফেকশাস ডিজিজেস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, মাঙ্কিপক্সের এই প্রাদুর্ভাবের বৈশিষ্ট্য কিছুটা অস্বাভাবিক। এর আগে মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থাও একই পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছিল।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সেখানে অংশ নেয়া মাঙ্কিপক্সে আক্রান্তদের এক চতুর্থাংশ এইচআইভি এবং আরেক চতুর্থাংশ অন্য কোনো যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত। যেহেতু মাঙ্কিপক্স অন্যান্য যৌনবাহিত রোগের লক্ষণ অনুকরণ করতে পারে, তাই গবেষকরা প্রতিটি কেসের সংজ্ঞা পর্যালোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
চেলসি এন্ড ওয়েস্টমিনস্টার হসপিটাল এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সদস্য ও এই গবেষণাপত্রের এক লেখক ডা. রুথ বার্ন বলেন, সংক্রমণ শনাক্তে ভুল হলে তা যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া ও ভবিষ্যতে সংক্রমণ ছড়ানো রোধ করতে বাধার সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন: বিস্ফোরণে কেঁপে কেঁপে উঠছে মিকোলাইভ
পশ্চিম ও সেন্ট্রাল আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে স্থানীয় রোগ হিসেবে পরিচিত মাঙ্কিপক্স সম্প্রতি আফ্রিকার বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। মে মাসের শুরু থেকে এতে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত ও একজন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের।
ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে মাঙ্কিপক্স ছড়িয়ে থাকে বলা হলেও, যৌনবাহিত রোগের সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি বীর্যের মাধ্যমে ছড়াতে পারে কিনা তা নির্ধারণ করতে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
একাত্তর/এসজে
